শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৯ ২২:২৯

অন্যের প্রতি কুধারণা গুরুতর গুনাহ

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

অন্যের প্রতি কুধারণা গুরুতর গুনাহ

অন্যের প্রতি কুধারণা করা ইসলামের দৃষ্টিতে গর্হিত অপরাধ বা গুনাহ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের গুনাহ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষত মুসলমানদের একে অন্যের প্রতি কুধারণা পোষণ বা অকারণ সন্দেহ কিংবা অন্যকে অবজ্ঞা করার মতো গর্হিত কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক সুসম্পর্কের স্বার্থে এক মুসলমানকে অন্য মুসলমানের মানসম্মান ও মর্যাদা সংরক্ষণের প্রতি যতœবান হতে বলেছেন।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সাবধান! অযথা ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। কেননা অযথা ধারণা পোষণ সবচেয়ে বড় মিথ্যা। মানবের দোষ অনুসন্ধান করো না। গুপ্তচরবৃত্তি করো না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে থাকো, যেভাবে তোমাদের আদেশ করা হয়েছে। এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর অত্যাচার করতে পারে না, তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না। এবং অবজ্ঞা করতে পারে না। তাকওয়া ও আল্লাহভীতি এখানে। (এই বলে তাঁর বুকের দিকে ইশারা করলেন) কোনো ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, মানমর্যাদা ও ধনসম্পদ হরণ করা হারাম। আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার দিকে তাকাবেন না। বরং তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি দৃষ্টি দেবেন।’

আরেক বর্ণনায় রয়েছেÑ ‘পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, ছিদ্রান্বেষণ করো না, দোষ অনুসন্ধান করে বেড়াবে না, অন্যের ওপর মিথ্যা প্রতারণামূলক দরকষাকষি করো না। আল্লাহর দাসেরা ভাই ভাই সম্পর্ক গড়ে তোলো।’ অন্য বর্ণনায় রয়েছেÑ ‘সম্পর্ক ছিন্ন করো না, খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করো না, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার কর। একজনের কেনাবেচার ওপর দিয়ে অন্যজন যেন কেনাবেচা না করে।’ মুসলিম। আয়েশা (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সুতরাং কেউ কারও প্রতি অন্যায় করবে না, কেউ কাউকে অপদস্থ করবে না, তুচ্ছ ভাববে না। (অতঃপর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে বুকের দিকে ইশারা করে তিনবার বললেন,) পরহেজগারিতা এখানে আছে। মানুষের অনিষ্ট হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ ভাববে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পরস্পরের রক্ত, অর্থ ও মর্যাদা খর্ব করা হারাম।’ মুসলিম, মিশকাত।

            লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য