শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৯ ২২:৩০

মাছে ভাতে বাঙালি

এ পরিচয় জিইয়ে রাখতে হবে

মাছে ভাতে বাঙালি

মাছে ভাতে বাঙালি এটি একটি প্রবাদ। যে প্রবাদে বাঙালির পরিচয়কেই তুলে ধরা হয়েছে। এ পরিচয় হাজার হাজার বছরের। বৈদিক যুগ কিংবা তারও আগের। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকাংশেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমও হয়ে উঠেছে মাছ চাষ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ। আশা করা হচ্ছে, অচিরেই এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। দেশের নদ-নদী সংস্কারের যে কর্মসূচি সরকার গ্রহণ করেছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের সর্বোচ্চ মাছ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হওয়াও সহজতর হবে। ইতিমধ্যে বিলুপ্তির তালিকায় থাকা মিঠাপানির ১৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন কৌশল আয়ত্তে আনা এবং বাণিজ্যিক চাষাবাদে মৎস্য খাতে ঘটেছে নীরব বিপ্লব। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষের ক্ষেত্রে অবস্থান পঞ্চমে। বাংলাদেশের ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতি বিলুপ্তির তালিকায়। বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এবং চাষিদের বাণিজ্যিক চাষাবাদে উৎসাহিত করতে এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন কৌশল ও জিনপুল সংরক্ষণ এবং চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রজাতিগুলো হলো- টেংরা, গুতুম, পাবদা, গুলশা, মেনি, ফলি, দেশি সরপুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, গুজি, আইড়, বাটা, ভাগনা, গনিয়া, কালবাউশ, মহাশোল, চিতল ও কুচিয়া। এ ছাড়া গবেষণার মাধ্যমে রুই ও তেলাপিয়ার জাত উন্নয়নে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন চাষিরা। বাংলাদেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ। মৎস্য খাতে প্রতি বছর ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দেশের সমুদ্র এলাকা থেকে পরিকল্পিত উপায়ে মাছ আহরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রেও অনেক এগিয়ে যাবে। সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি করেও দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। মাছ চাষ বৃদ্ধির সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন জড়িত। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণেও মাছ চাষে আরও বেশি যত্নবান হতে হবে।


আপনার মন্তব্য