শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৫

প্রসঙ্গক্রমে

আরও এগিয়ে যেতে হবে

ফাতিমা পারভীন

আরও এগিয়ে যেতে হবে

বর্ণাঢ্য আয়োজন। উদ্যানের ভিতরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। ছোট-বড় বেশ কয়েকটি নৌকা, মূল মঞ্চটি সাজানো হয়েছিল দলের এবারের ইশতেহারের মলাটের রঙে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ফেস্টুনে সাজানো পুরো সমাবেশ চত্বর। একই দৃশ্য বাইরের বিভিন্ন সড়কেও চোখে পড়ার মতো। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন নজর কেড়েছিল। নজর কেড়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের কথাটি। মন কেড়েছিল অভিনন্দনপত্রের কিছু বাণী।

কথা দিয়ে কথা রাখার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার আলোকসঞ্চারী সৎ সাহসী নেতৃত্বের বিভায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ। গত নির্বাচনে জনগণ তাদের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ দিয়েছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধী-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে। মুহূর্তকাল বিলম্ব না করে যোজন যোজন মাইল পেছনে ফিরে তাকাই। আমরা সত্যিই কেমন ছিলাম নারীরা, আর এখন কেমন আছি!

অন্যের নয়, নিজের কথাই মনে পড়ে গেল। যখন আমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন পরপর চারজনের হাত বদলের পুরনো বই দিয়েই সেদিনের সেই ছেঁড়া আর দাগ টানা আর অসংখ্য ওভার রাইটিং করা বইয়ের পাতাগুলো বড় বেশি হৃদয়ের গহিনে আজও ঠাঁই করে আছে; যা কোনো দিন ভুলতে পারব না।

১৯৭০ সালে নারী শিক্ষার যে হার ছিল, তা জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের কারণে ২০১৮ সালনাগাদ মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছেলেমেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেল। আবার সেই উদ্যোগের সাফল্যের ফল পাওয়া গেল পরবর্তীতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল চোখে পড়ার মতো। আজ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের অর্জন খুবই ভালো। সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা -মূলক পরীক্ষার মেধা তালিকায় নারীদের দেখা যায়। তারা বিশেষ যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে কর্মক্ষেত্রে।

সরকারি চাকরির বিভিন্ন ক্যাডারে নারীর উপস্থিতি আজ চোখে পড়ার মতো। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নারী আজ প্রতিষ্ঠিত তাদের যোগ্যতায়। নারী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক প্রচুর। স্বাধীন ব্যবসা-বাণিজ্যে পর্যন্ত তারা ভালো করছে। বিভিন্ন চেম্বারের নেতার অনেকেই নারী। বাংলাদেশে নারী আজ পিছিয়ে থাকা অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নয়। বাংলাদেশ এখন স্বপ্নের দেশ। এসব আজ একজন নারীর নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে; যার নাম শেখ হাসিনা।

অনেক দিন থেকে নারী সংগঠন ও নারী নাগরিকসমাজ থেকে আমরা দাবি করে এসেছি নীতিনির্ধারণে নারীর প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। শক্ত হাতে রাষ্ট্রের হাল ধরে থাকা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে নারী নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়েছেন। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা বাড়ানো হয়েছে তাঁর আমলে।

নারীসমাজের দ্রুত অগ্রগতি ঘটল, মূল সংবিধানে একটি বড় পরিবর্তনও আনা হলো। অষ্টম সংসদে সংবিধানের দশম সংশোধনী পাস হয়। সে সংসদেই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী গৃহীত হয়, সেখানে নারী আসনসংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ৪৫। সবই করা হয় নারী ক্ষমতায়নের স্বার্থে এবং সবই যে নারীসমাজের অগ্রগতির প্রয়োজনে তা কিন্তু নয়, অবশ্য দলে নারীদের একটি সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রও তৈরি করা হয়েছে। নবম সংসদের প্রথম অধিবেশন হয় জানুয়ারি, ২০০৯-এ। সে সংসদ ২০১১-এর ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে নারী ক্ষমতায়নের জন্য গত বছর ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধনী) আইন-২০১৮’ অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছিল। তাতে প্রস্তাব করা হয়েছিল, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়বে আরও ২৫ বছর। প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে। পাস হয়েছে। বেড়েছে আরও নারী ক্ষমতায়ন। ২০৪৪ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসন স্থায়ী করা হলো। সংসদে এখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সরকারি দল।

সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বর্তমান সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন থাকল। এর বাইরেও সরাসরি ভোটে ৬৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন নির্বাচিত হয়েছেন, যদিও প্রার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই বিজয়ী হতে পারেননি। তার পরও নির্বাচিত নারীরা সংসদে গিয়ে শুধু দল নয়, নারী গোষ্ঠীরও প্রতিনিধিত্ব করবেন- সে প্রত্যাশা নারীসমাজের।

নারী নেতৃত্বের অগ্রগতি গর্ব করার মতো। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নারীরাই। সারা দুনিয়ার জন্যই এটি নজিরবিহীন ঘটনা। তার পরও বার বার নারীদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অগ্রগতি বাংলাদেশে নারীদের জন্য ইতিবাচক হলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে নারীদের মর্যাদা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হবে। নারীদের আরও অনেক পথ এগিয়ে যেতে হবে।

লেখক : নারী ও শিশু অধিকার কর্মী।

[email protected]

 


আপনার মন্তব্য