শিরোনাম
রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা

বেসামাল সবজির বাজার

পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করুন

গত এক দশকের মধ্যে এ বছর বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ছোবল হেনেছে এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। বন্যায় শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং মালামাল পরিবহনে বিঘœ সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীতে কেজিপ্রতি সবজির দাম বেড়েছে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম ইতিমধ্যে আকাশ ছোঁয়ার উপক্রম হয়েছে। চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে কাঁচা মরিচ। পশ্চিম বাংলা, আসাম ও ত্রিপুরায় বন্যা ছোবল হানায় বিহার থেকে আনা হচ্ছে এ নিত্যপণ্যটি। বাজারে এখন প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। টমেটো, গাজর, শসার দামও আকাশচুম্বী; যা ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে বন্যার কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও বাজারে পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যার অনিবার্য প্রতিক্রিয়া। প্রতিটি সবজির দাম বাড়লেও ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতো ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাল কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম কিছুটা কমেছে। বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় সব জায়গায় এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে বেশির ভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ইলিশের আমদানিও শুরু হয়েছে মাছ ধরার দীর্ঘ বিরতি শেষে। সবজির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধিতে ইন্ধন জুগিয়েছে। মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও বন্যার কারণে যে এটি ঘটছে, এ সম্পর্কে ক্রেতারাও সচেতন। বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ ইচ্ছা করলেই সরকার কিংবা প্রশাসনের পক্ষে স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তবে পণ্য পরিবহন যাতে সহজতর হয় এবং চাঁদাবাজি যাতে না হয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নজর থাকা উচিত।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর