শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২২

ডেঙ্গুর শিকার কর্মজীবীরা

চিকিৎসক নার্সরাও রেহাই পাচ্ছেন না

ডেঙ্গুর শিকার কর্মজীবীরা

ডেঙ্গু শুধু আমজনতাকে নয়, চিকিৎসকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেই আটজন চিকিৎসক ও ২৭ জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ডেঙ্গুতে। বেপরোয়া এডিস মশার কবল থেকে রেহাই পাননি চিকিৎসক এবং সেবিকারা। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব। গত বৃহস্পতিবার জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে রোগীদের সেবা করেন ওই চিকিৎসক। পরদিন শুক্রবার তার শরীরের অবস্থা গুরুতর হতে শুরু করে। শনিবার রক্ত পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনিও ডেঙ্গু আক্রান্ত। এর পর থেকে তিনি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদীপ রঞ্জনের মতো মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আরও আট চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত। একই হাসপাতালের ২৭ জন নার্সও আক্রান্ত ডেঙ্গুজ্বরে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক চিকিৎসক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ছয় চিকিৎসক ও তিন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচ চিকিৎসক ও এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। শুধু চিকিৎসক-নার্সই নন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন। চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মজীবীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে কর্মস্থলের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কারণে। বিশেষজ্ঞরা এ হুমকি মোকাবিলায় কর্মস্থলকে সুরক্ষার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন। কর্মজীবীদের জুতা, মোজা ও ফুলশার্ট পরার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে মশা প্রতিরোধী অ্যারোসলসহ অন্যান্য সামগ্রী অফিস, কলকারখানায় ব্যবহার এবং দিনরাত যে কোনো সময় ঘুমাতে গেলে মশারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মশা নিধনে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে মশা নিধনের ওষুধ আমদানির তাগিদ দিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে প্রথাগত পদ্ধতি অনুসরণ করে দরপত্র আহ্বানের নামে সময় ক্ষেপণের বদলে দায়িত্বশীলদের বিশেষত দুই সিটি মেয়রের তত্ত্বাবধানে মশা নিরোধ ওষুধ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তাতে তারা নিজেদের সুনামের স্বার্থেই ঠিকাদারদের মতো পকেট ভরার বদলে মশা মরে এমন ওষুধ আমদানির চেষ্টা  করবেন- এমনটিই আশা করা যায়।


আপনার মন্তব্য