শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২৩

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী হামলা

সাপ পোষার অনিবার্য পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী হামলা

সাপ পুষলে সাপের ফণায় জীবন দিতে হয়। বাংলাদেশের একজন স্বনামখ্যাত ছড়াকারের বহুল পরিচিত ছড়ার এ পঙ্ক্তিটির যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদীদের বন্দুক হামলার ঘটনায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শনিবার একাধিক বন্দুকধারী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি স্থানে হামলা চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় টেক্সাসের একটি সুপার সেন্টারে এবং রাত ১টার দিকে ওহাইওর একটি পানশালায় হামলা চালায় বর্ণবাদীরা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এল পাসো সিটির ওয়ালমার্ট সুপার সেন্টারে এক বন্দুকধারীর নির্বিচার গুলিতে ২০ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৪ জন। একই দিন একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে এ হামলার সময় সুপার সেন্টারে বহু ক্রেতার ভিড় ছিল। হামলাকারীরা দফায় দফায় গুলি ছোড়ে। তাদের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে একের পর এক লোক গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাটিকে দেশের ইতিহাসের মারাত্মক ঘটনাগুলোর একটি উল্লেখ করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওহাইওর ডেটনে একটি পানশালার বাইরে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ১০ জন এবং পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অন্তত ১৬ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি শপিং মলে বন্দুকধারীর গুলিতে ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে মন্তব্য করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের টুইটারে তিনি বলেছেন, হামলার ঘটনা শুধুই দুঃখজনক নয়, এটি একটি কাপুরুষোচিত কাজ। বন্দুক হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে প্যাট্রিক ক্রসিয়াম নামের এক যুবককে। হামলার আগে একটি ইশতেহারের মাধ্যমে তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের অনুসারী হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। স্মর্তব্য, ব্রেন্টন ট্যারান্ট বর্ণবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ওই কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দুনিয়ায় শ্বেতাঙ্গবাদের উত্থান ঘটেছে। অভিবাসী ও অখ্রিস্টানদের আগমনে শ্বেতাঙ্গরা কর্তৃত্ব হারাচ্ছে- এমন প্রচারণা চালাচ্ছে বর্ণবাদীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্ণবাদী চেতনাকে ট্রাম্প তার ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। দুধ-কলা দিয়ে বর্ণবাদী সাপ পোষার ভ্রান্ত নীতি মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনায় ৩০ জনের প্রাণহানির জন্য দায়ী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চাইলে ঘটনার শুধু  নিন্দা নয়, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।


আপনার মন্তব্য