শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৭

ইতিহাস

খেমাররুজদের পরিকল্পনা

খেমাররুজদের পরিকল্পনা ছিল কম্বোডিয়া বছরে তাদের জমির প্রতি হেক্টর থেকে ৩ টন চাল উৎপাদন করবে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য মানুষজনকে সারা বছরই কৃষিকাজ করতে হতো। পুরো অঞ্চল কৃষিকাজের উপযুক্তও ছিল না। এখানে বলে নেওয়া ভালো, প্রতি হেক্টর বলতে প্রতি হেক্টর কৃষি জমি বোঝানো হয়নি, বোঝানো হয়েছে সবরকম জমিকে। এই জমিতে যেমন পাহাড়-পর্বত ছিল তেমন ছিল জলাশয় কিংবা চাষের অযোগ্য জমিও ছিল। তাতে কি? পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। দেখা গেল অধিকাংশ অঞ্চলে খেমার সাধারণ মানুষজনকে দিনে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হচ্ছে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য। দেওয়া হচ্ছে না পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের সুযোগ। চার বছর পর দেখা গেল দেশজুড়ে ২০,০০০ বধ্যভূমিকে হত্যাকান্ডের বাইরেও অতি পরিশ্রমে আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা আর চিকিৎসাসেবার অভাবে শহুরে পাঁচ লাখ মানুষ নির্মমভাবে মারা গেল। এবার বিপ্লবীরা দেশটির ১৪ থেকে ১৭ বছরের ছেলেমেয়েদের খুনি হিসেবে গড়ে তোলার এক মাস্টার প্ল্যান হাতে নেয়। কম বয়সের এসব ছেলেমেয়ের মধ্যে যারা তাদের দলে ভিড়ে মানুষ হত্যার কাজ করতে রাজি হয়নি তাদের নানাভাবে অত্যাচার করা হতো। ফলে অল্প সময়ের মাঝেই তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর খুনি।  কম্বোডিয়া হত্যাকান্ডের ছবি দেখলে দেখা যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাশের পাশে দাঁড়ানো খুনিটি একজন  কিশোর।


আপনার মন্তব্য