শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:২৮

সুচিত্রা মধুবালা মাধুরী থেকে ইন্দিরা

নঈম নিজাম

সুচিত্রা মধুবালা মাধুরী থেকে ইন্দিরা

ছবি দেখতে পছন্দ করি আমি। পুরনো আর নতুন বলে কিছু নেই। সেদিন ফ্লাইটে বসে দেখলাম ‘কণ্ঠ’ ছবিটি। ভালো অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। আজকাল ভালো ছবির দেখা খুব সহজে মেলে না। দূরপাল্লার ভ্রমণে ফ্লাইটে বসে ছবি দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়। ফ্লাইটে বাছাই করা ছবি থাকে। হৃদয়ে দাগ কাটা পুরনো দিনের সিনেমাগুলো পাই। এখনকার ছবি আর আগের মতো দাগ কাটে না। আর কাটে না বলেই মুঘল-ই-আজমের মতো পুরনো ছবির চাহিদা প্রবীণদের কাছে রয়ে গেছে। তবে আমি সব ধরনের ছবি দেখি। সেদিন আবার দেখলাম হিন্দিতে নির্মিত পুরনো ‘দেবদাস’। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৫ সালে। এ ছবিতে সুচিত্রা সেন পার্বতী আর বৈজয়ন্তীমালা ছিলেন চন্দ্রমুখী চরিত্রে। সুচিত্রার সেই অভিনয়, পাল্লা দিয়ে বৈজয়ন্তীমালা দেবীও কম যান না। এই বৈজয়ন্তীমালা অসাধারণ নাচতেন। একটা মিথ আছে-  ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এক অনুষ্ঠানে নাচলেন বৈজয়ন্তীমালা। প্রধানমন্ত্রী খেয়াল করলেন, অনুষ্ঠানে থাকা তার মন্ত্রিপরিষদের অনেক সদস্য ও প্রবীণ অনেক নেতা এই নাচের মাঝেও ঘুমিয়ে পড়েছেন। ইন্দিরা বিস্ময় নিয়ে সব দেখলেন। বিষয়টি শেয়ার করলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে। এর পরই তিনি কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইন্দিরা রাজনীতিতে প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় করেছেন। কঠোর পরিশ্রমী ইন্দিরা সারাক্ষণই কর্মব্যস্ত থাকতেন। তাঁর কোনো অবসর ছিল না। সোনিয়া গান্ধীর অনেক স্মৃতিচারণায় ইন্দিরার সেই সব দিন উঠে আসে।

আমাদের দেশেও অনেক জুনিয়র, সিনিয়রকে সংসদে ঘুমিয়ে পড়তে দেখি। তার পরও তাদের চাওয়ার শেষ নেই। দুনিয়ার সব কাজেই নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এখন সবাই শর্টকাটে সবকিছু করতে চায়। ক্যাসিনোকান্ডে বড়লোক হতে চায়। নেতা হতে চায়। জীবনের ঘাটে ঘাটে লুকিয়ে আছে কত ক্যাসিনো! শুধু রাজনীতি নয়, মিডিয়ায়ও একই হাল দেখি। মিডিয়া মানে শুধু সংবাদপত্র আর টিভি নয়। চলচ্চিত্রও বেহাল। অথচ বাংলাদেশে একসময় অনেক ভালো ছবি নির্মিত হতো। এখন আর হয় না। শর্টকাটে নির্মিত ছবি কেউ দেখে না। যে কারণে বাংলা ছবি দর্শক হারিয়েছে। হলগুলো বন্ধের পথে। বেহাল নায়ক-নায়িকারাও শর্টকাটে রাজনীতিতে নেমেছেন। নেতাদের সঙ্গে ছবি- ফেসবুকে সেলফি দিয়ে আনন্দ নিচ্ছেন ও দিচ্ছেন। তবে ঢাকাই ছবির অনেকে কলকাতা গিয়ে ভালো করছেন। ওখানে তাদের ছবির কদরও দেখতে পাচ্ছি। ভালো নির্মাতাও এখন নেই। হারানো দিন আর ফিরে আসে না। তাই তো দাগ কাটার মতো বাংলা ছবি আমরা পাই না। প্রতিযোগিতা সব সময় ছিল। শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’ ঢাকা, কলকাতার চেয়ে মুম্বাইয়ে এগিয়ে। এ যুগেও শাহরুখ খান অভিনীত দেবদাস ব্যবসাসফল। এ ছবিতে পার্বতী ঐশ্বরিয়া রায় আর চন্দ্রমুখী চরিত্রে মাধুরী। ’৫৫ সালে নির্মিত দেবদাসে মধুবালার অভিনয় করার কথা ছিল পার্বতী চরিত্রে। কিন্তু দিলীপ কুমারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনই এ ছবির অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান মধুবালা। পরিচালক বিমল বাবু তখন কলকাতা থেকে নিয়ে যান সুচিত্রাকে। পার্বতী চরিত্রে আহা কী অসাধারণ অভিনয় সুচিত্রার। মধুবালার অভাব বুঝতেই দেননি। আর চন্দ্রমুখী চরিত্রে বৈজয়ন্তীমালাও কম যাননি। ছবির জগতে তিনজন নায়িকার মিল খুঁজে পাই। এ তিনজন হলেন- মধুবালা, সুচিত্রা সেন আর মাধুরী। কোথায় যেন মিল রয়েছে তাদের। চেহারা, চোখের চাউনি, সংলাপ, গল্পের সঙ্গে মিশে যাওয়া।

সময় থেমে থাকে না। সামনে যেতে থাকে। মাঝে অমিতাভ বচ্চনের একটি ছবি দেখেছিলাম ‘পিংক’। এ ছবির একটি সংলাপ, ‘না মানেÑ না, একজন নারী পতিতা হলেও তিনি যদি না বলেন তার প্রতি সম্মান দিতে হবে।’ মাঝে আমির খান বেশ কিছু ভালো ছবি করেছেন। ‘পিকু’, ‘থ্রি ইডিয়েটস’সহ অনেক ছবিতে সমাজের জন্য কিছু বার্তা ছিল। তবে ইতিহাসখ্যাত ছবি আমাকে বেশি টানে। ‘গান্ধী’ ছবির তুলনা হয় না। অসাধারণ। আমার দেখা সেরা ছবির একটি। ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে মাওলানা আজাদের লেখা বই নিয়ে কিছু একটা হতে পারত। কেউ করেননি। নেতাজি সুভাষ বসুকেও অনেক ডকুমেন্টারিতে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আবার কিছু বিভ্রান্তিও ছড়ানো হয়। সেদিন এক বন্ধু একটি ডকুমেন্টের লিঙ্ক পাঠালেন কলকাতা থেকে। লিঙ্কটা ঐতিহাসিক কিছু বিতর্ক নিয়ে। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দলিলে সই করেন তখনকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি। এ কারণে ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে এই নামটি আলোচিত। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর অনেক কৌশল ছিল। বিতর্ক আছে বাংলাকে বিভক্ত করা নিয়েও। সেসব প্রশ্নের দিকে যাচ্ছি না। ইতিহাসে আলোচনা-সমালোচনা ছিল, আছে, থাকবে। এমনকি সীমান্তরেখাগুলো নিয়েও রাজনীতিবিদদের কূটকৌশল, ধর্মীয় গোঁড়ামি, কারও কারও অস্বচ্ছ অবস্থান এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। মাওলানা আজাদের বইয়ের অপ্রকাশিত ৩০ পৃষ্ঠায় অনেক কিছু রয়েছে। আবার পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা নেতাজি সুভাষ বসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা সামনে আনার লড়াইটা এখনো করে চলেছেন। আমাদেরও অনেক দিন লড়তে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। নেতাজির সাহসী ভূমিকা আজাদ হিন্দ ফৌজ শুধু ভারতবর্ষ নয়, দুনিয়াকে তখন কাঁপিয়েছিল।

ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৫৬ সালে ক্লিমেন্ট এটলি পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন। কলকাতায়ও তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এটলির সঙ্গে প্রটোকল ও আড্ডায় সারাক্ষণই ছিলেন গভর্নর পি বি চক্রবর্তী। এক রাতের আড্ডায় গভর্নর পি বি চক্রবর্তী এটলিকে প্রশ্ন করেন, ব্রিটিশরা এত জলদি ভারতকে স্বাধীনতা দিল কেন? তারা চাইলে আরও থাকতে পারত। জবাবে এটলি বললেন, সুভাষ চন্দ্র আজাদ হিন্দ বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর ভারতের সার্বিক অবস্থান বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্থল, জল বাহিনীর ৯০ শতাংশই মনেপ্রাণে বিদ্রোহী হয়ে যায়। তারা ব্রিটিশ বাহিনীতে থাকলেও তাদের মনমানসিকতা ছিল ভারতীয়। এদের দিয়ে আর ভারত শাসন করা যেত না। ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগ যে কোনো সময় বিদ্রোহের আশঙ্কা করে রিপোর্ট দিয়েছিল। আর যুদ্ধকালে তা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা ব্রিটিশদের ছিল না। রাত বাড়তে থাকে আলাপে, আড্ডায়। এটলিরও ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ। অন্যদিকে পি বি চক্রবর্তী শুনতে চান শেষ কথাটা। তাই আবার প্রশ্ন করলেন, তাহলে গান্ধীজি? অহিংস আন্দোলনের প্রভাব? ঘুম জড়ানো কণ্ঠে এটলি উত্তর দিয়েছিলেন, ছিল। ব্রিটিশদের ভয়টা ছিল বিশ্বযুদ্ধের পর মানুষকে সামলানো নিয়ে। ইতিহাসের পাতায় অনেক কিছুই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আমাদের অনেক কিছু আরও সামনে আসা দরকার। ভোটের রাজনীতিতে অংশ না নিয়ে মওলানা ভাসানী ভুল করেছিলেন। একবার ভুল হলে হতেই থাকে। সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। আর নেতাজিকে বড় করতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে ছোট করার সুযোগ নেই। ইতিহাসে যাঁর যাঁর অবদান-অবস্থান তৈরি হয়ে আছে।

বাংলাদেশে ইতিহাস বদলানোর চেষ্টা অনেকবার হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আমাদের অর্জিত ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হয় নানা কায়দায়, কৌশলে। বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়। ধ্বংস করা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কিন্তু কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি। এ দেশটা আসমান থেকে স্বাধীন হয়নি। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের সদস্যরা ’৭১ সালে যুদ্ধে যান বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে। বঙ্গবন্ধু মানুষের মুখের ভাষা বুঝতে পারতেন। সাধারণ মানুষের আস্থা শুধু বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল। মানুষ মনে করত বঙ্গবন্ধুই পারেন বাংলাদেশ তৈরি করতে। দেশটা স্বাধীন করতে। বঙ্গবন্ধু তা-ই করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ এ শব্দগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িয়ে রয়েছে গভীর মমতায়। একটি থেকে আরেকটি আলাদা করা যায় না। ইতিহাসের কিছু মাহেন্দ্রক্ষণ থাকে। এ ক্ষণ জয় করে কিছু মানুষ ক্ষণজন্মা হয়ে যান। সেই মানুষগুলোকে কারণে অকারণে টেনে এনে বিতর্ক সৃষ্টির দরকার নেই। আর দেশপ্রেমটা উড়ে আসে না। মানুষের ভিতরে থাকতে হয়। আপনি দেশে কিংবা বিদেশে থাকুন কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশটা হৃদয়ে থাকলেই চলে। কিছুদিন আগে ইস্ট লন্ডনে হাঁটার সময় দেখলাম বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড। শুধু ইস্ট লন্ডন নয়, আরও অনেক দেশে অনেক রাজনৈতিক দল সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। কারও কারও সাইনবোর্ড না থাকলেও বিদেশে সংগঠন করা নিয়ে পিছিয়ে নেই কেউই। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, আঞ্চলিক সংগঠনও রয়েছে অনেক। আগে সবাই জেলা কমিটি করত, এখন অনেক দেশে উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম কমিটিও গঠন হয়। আর রাজনৈতিক দলগুলো অকারণে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। শুধু মূল দল নয়, অঙ্গসহযোগী সংগঠনেরও শেষ নেই। এ সংগঠনগুলো আবার বেচাকেনা হয়। বড় অদ্ভুত। কষ্টে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিদেশে রাজনৈতিক দলের শাখা কেনার প্রতিযোগিতার কী মানে থাকতে পারে? আবার শ্রমিক দল, শ্রমিক লীগ, কৃষক দল, কৃষক লীগের বিদেশ শাখার কাজ কী তাও বুঝি না। হয়তো আমার বোঝার শক্তি কমে যাচ্ছে দিন দিন। তবে মাঝেমধ্যে পরস্পরের হানাহানি, ডিম ছুড়ে মারার দৃশ্য দেখে কষ্ট পাই। এ ধরনের ঘটনা বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। আমাদের ছোট করে বিদেশিদের কাছে। কোনো মানে হয় না এমন তৎপরতার। কেন বিদেশে সংগঠন করতে গিয়ে পুলিশ ডাকতে হবে আমাদের?

বাঙালি সংগঠনপ্রিয় সব সময়। কিন্তু তাই বলে সংগঠনের নামে হানাহানি, বিরোধের কী দরকার? ষাটের দশকের মাঝামাঝি ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ’৬৬ সালে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন ব্যাপক সম্মাননা দেন তাঁকে। হোয়াইট হাউসের গেট থেকেই ইন্দিরাকে নিজেই রিসিভ করে ভিতরে নিয়ে যান। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এভাবে সম্মাননা দিতে দেখে ভারতীয়দের অনেকে উৎসাহিত হয়ে সাক্ষাৎ করেন ইন্দিরার সঙ্গে। তারা ইন্দিরার কাছে অনুমতি চান ভারতীয় কংগ্রেসের যুক্তরাষ্ট্র শাখা করার জন্য। ইন্দিরা জবাব দিয়েছিলেন, দেশের বাইরে আপনারা সবাই ভারতীয়। এখানে আলাদা রাজনৈতিক দলের শাখা কেন করবেন? তার চেয়ে সবাই মিলে ভারতীয় সোসাইটি শক্তিশালী করুন। এরপর দেশের বাইরে ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শাখা হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ গেলে দল-মতনির্বিশেষে সবাই সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেনজির ভুট্টোও কঠোরভাবে প্রবাসে রাজনৈতিক দলের শাখা প্রতিষ্ঠা করতে দেননি। সর্বশেষ রাহুল গান্ধীর একটি ঘটনা মনে করিয়ে দিতে চাই। রাহুল যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন জেএফকে বিমানবন্দরে। রাহুলের হাতে একটিমাত্র হ্যান্ডব্যাগ। দূতাবাস কর্মকর্তারা হাত বাড়িয়ে নিজেদের পরিচয় দেন। তারপর বললেন, আপনার জন্য গাড়ি তৈরি। স্যার ব্যাগটা দিন। রাহুল হেসে করমর্দন করলেন। তারপর বললেন, ব্যাগটি আমি বহন করতে সক্ষম। কোনো সমস্যা নেই। কাল জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। সেই কর্মকর্তারা আবার এগিয়ে এলেন, স্যার গাড়ি আছে বাইরে। রাহুল বললেন, গাড়ির দরকার নেই। নিজের ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে রাহুল একটি ট্যাক্সিতে চলে গেলেন হোটেলে। বাইরে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীর কোনো জটলা ছিল না। স্লোগান, হুড়োহুড়ি ছিল না। এমনকি অন্য দলের পাল্টা স্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুনও কেউ দেখেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও ডাকতে হয়নি। এসব কাজ করতে হয় আমাদের। ভারতীয়রা রাজনীতি করেন নিজের দেশে। দেশের বিরোধ বাইরে টেনে নেন না। আমরা দেশের বিরোধ বাইরে নিয়ে যাই। বিচার দিই বিদেশিদের কাছে। আসলে আমাদের এ ভূখন্ড কখনো স্বাধীন ছিল না। এ কারণে মানসিকতার বদল হয়নি। এখনো আমরা বিদেশিদের কাছে নালিশ করে আরাম পাই। বিদেশে দলবাজি, গ্রুপিং এবং দেশের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়ে আনন্দ নিই। বাংলাদেশের জাতীয় নেতাদের খাটো করি। বাংলাদেশে আমরা পক্ষে-বিপক্ষে থাকতে পারি। কিন্তু বিদেশে কেন? এতে আমরা নিজেদেরই খাটো করি। বিদেশে এত সংগঠন, হানাহানির কোনো দরকার নেই। প্রবাস পরবাস শান্তির জন্য। অশান্তির অনল ছড়ানোর কোনো মানে নেই।

                লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।


আপনার মন্তব্য