শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৪

ইতিহাস

নৃশংসতা একেই বলে

নৃশংসতা একেই বলে

ক্ষমতা দখলের চার ঘণ্টার মধ্যে বড় ভাই পলপটের জ্ঞাতি-গোষ্ঠীরা খেলা শুরু করে দিলেন। যে লোকজন  রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অভিবাদন জানাচ্ছিল, যারা মার্কিন আগ্রাসনের হাত থেকে মুক্তি চাচ্ছিল, খেমার-রুজেরা সেই লোকদেরই অশুদ্ধ, মার্কিনপ্রেমী, পাতিবুর্জোয়া, শহুরে বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করে ঘরছাড়া করে। অস্ত্রের মুখে এক কাপড়ে পুরো শহরকে রাস্তায় বের করে নিয়ে এসে গ্রামের দিকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। মালপত্রসহ দালানগুলো স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। সেই গল্পে সামনে আসছি... শুরুতেই আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি কর্মকর্তাদের পাইকারি হত্যা করতে থাকে খেমার-রুজ বাহিনী। এরপর সামরিক বাহিনীতে যাদের অবাধ্য মনে হয়েছে তাদেরই কচুকাটা করা হয়েছে। এরপর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতে থাকে একটি স্কুলের পথে। যে স্কুলটির নাম সময়ের বিবর্তনে হয়েছিল S-21১। নমপেন শহরের সেই হাইস্কুলের নাম ছিল ‘টুঅল সাভি প্রেই’। ধবধবে সাদা রং করা পাঁচটি দালান মিলে ছিল তিনতলা স্কুলটি। এ স্কুলে পরবর্তী চার বছর ধরে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে বন্দী করে নির্যাতন করা হয়। স্কুলের নতুন নাম দেওয়া হয়Security Prison 21 (S-21) । স্কুলটির ক্লাসরুমগুলোই হয়ে ওঠে এক একটি টর্চার চেম্বার। গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ বন্দী আনা হতো এ কেন্দ্রে। এখানে যারা মারা যেত, তারা বেঁচে যেত, আর যারা বেঁচে থাকত তাদের পাঠানো হতো বধ্যভূমিতে হত্যা করার জন্য। আরও নির্মম মৃত্যু অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য। S-21 টর্চার সেলে নির্যাতনের কিছু প্রক্রিয়া- ১. ইলেকট্রিক শক দেওয়া ২. লোহার তার গরম করে শরীরের নানা জায়গায় ঢোকানো ৩. সিলিং থেকে উলটো করে ঝুলিয়ে রাখা ৪. মাথায় প্লাস্টিকের ব্যাগ ভরে নিঃশ্বাস আটকে রাখা ৫. ধারালো ছোরা দিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফালি ফালি করে কাটা ৬. নখ তুলে ফেলা এবং নখের ক্ষতে অ্যালকোহল ঢালা ৭. মাথা পানিতে চুবিয়ে রাখা ৮. মেয়েদের ধর্ষণ। বধ্যভূমির কথা বলছিলাম। চোয়েয়ুঙ্গ ছিল তেমন একটা বধ্যভূমি।


আপনার মন্তব্য