শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৭

দাম কমেনি পিয়াজের

ভুল পথে চলার অনিবার্য ফল

পিয়াজের দাম কিছুতেই কমছে না। কমছে না প্রশাসনের মতলববাজদের কারণে, ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানের কাজে অভ্যস্ত দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারসাজিতে। একের পর এক ব্যবসায়ীকে হেনস্তা করার পরও পিয়াজের দাম কমার বদলে আরও বেড়েছে- চাহিদার তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত পিয়াজ সরবরাহ না থাকার কারণে। বিদেশ থেকে বর্তমানে যে পিয়াজ আমদানি হচ্ছে তা চাহিদার বড়জোর ২০ শতাংশ। ফলে মূল্য বৃদ্ধির কারণে পিয়াজ ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেলেও দাম কমার বদলে বাড়ছে। গত মঙ্গলবার ৩২ জন আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। কর্তৃপক্ষের মতে, আমদানির পর পিয়াজ কোথায় কোথায় গেছে সে তথ্য পাওয়া গেছে জিজ্ঞাসাবাদে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বাজার কারসাজিতে ভূমিকা রাখলে তাদের চিহ্নিত করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় পিয়াজ আমদানিকারকরা যেসব পিয়াজ আমদানি করেছেন, সেগুলো কাদের কাছে কী দামে বিক্রি করেছেন, কোথায় বিক্রি করেছেন, তাদের নাম-ঠিকানাসহ সব তথ্য তারা সংগ্রহ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। আগামীতে প্রয়োজন হলে আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও ডাকা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ডেকে পিয়াজ আমদানি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে; যাতে পিয়াজের বাজার দ্রুত সহনশীল হয়। গত আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসের বেশি সময়ে ১ হাজার টনের বেশি পিয়াজ আমদানি করেছে ৪৫ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতি কেজি পিয়াজ আমদানিতে তাদের খরচ হয়েছে গড়ে ৩৮ টাকা ২৬ পয়সা। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হলে আরও কয়েক গুণ পিয়াজ আমদানি হতো, দাম মানুষের নাগালের মধ্যে থাকত। কিন্তু বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের বদলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা সমস্যাকে কোথায় ঠেলে দেয়, দেড় মাসে পিয়াজের দাম ৭০০ ভাগ বৃদ্ধি তারই প্রমাণ। সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে পিয়াজ আমদানিতে উৎসাহিত না করে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরিমানা নামের নির্যাতন চালানোর অপকৌশলে সংকট ঘোরতর রূপ ধারণ করেছে। ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে হলে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।


আপনার মন্তব্য