শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৮

পাকিস্তানের ডাবল স্ট্যান্ড

মুখে মুসলিম-প্রেম কাজে আলাদা

পাকিস্তানের ডাবল স্ট্যান্ড

পাকিস্তান আর স্ববিরোধিতা ঐতিহ্যগত ব্যাপার। মুসলমানদের আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই দেশটি। কিন্তু মুসলিম জাতভাইদের স্বার্থের ব্যাপারে পাকিস্তান কতটা যত্নবান তার প্রমাণ পাওয়া যায় চীনের ১ কোটির বেশি উইঘুর মুসলিমের ব্যাপারে তাদের অদ্ভুত নীরবতায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশে যে গণহত্যা ও নারী ধর্ষণ চালিয়েছে তা তাদের ধর্মবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। চীনের উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাসস্থল জিনজিয়াং প্রদেশ। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এ এলাকাটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর ‘মুসলিমদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার গেল গেল’ বলে পাকিস্তান শোরগোল করেছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ‘ভারতের বিজেপি সরকার কাশ্মীরে জঘন্য কাজ করেছে’ বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই ইমরান খান উইঘুর মুসলিমদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন দেখতে পাচ্ছেন না! জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্মম অত্যাচার চীনে ইসলামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রদেশটির কাশগড় ও উরুমকি শহরের মসজিদগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে। সেখানে ইসলাম প্রচারের কাজে আজকাল আর কাউকে দেখা যায় না। পুরো এলাকা একটা জেলখানায় পরিণত হয়েছে। মুসলিমদের আল্লাহ ছেড়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভজন-পূজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোনাজাত, ইসলাম শিক্ষা ও রোজা পালনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমনকি চীনের অন্যান্য প্রদেশেও আরবিতে কোনো লেখা প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কাশ্মীরের মুসলমানদের জন্য মায়াকান্না দেখালেও কাশ্মীরিদের দুর্ভাগ্যের জন্য পাকিস্তানই মূলত দায়ী। ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগের সময় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। কাশ্মীরসহ সব দেশীয় রাজ্যকে হয় এ দুই দেশের যে কোনোটিতে যোগদান অথবা স্বাধীন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। কাশ্মীরের ডোগরা রাজা স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পাকিস্তান কাশ্মীর দখলে গোপনে উপজাতীয় লুটেরা ও সেনাদল পাঠালে কাশ্মীরের রাজা ভারতে যোগদান করতে বাধ্য হন। উপজাতীয়দের দ্বারা অপদখলকৃত কাশ্মীরের একাংশ পাকিস্তানের দখলদারিত্বে থেকে যায়। কাশ্মীরের মুসলমানদের জন্য মায়াকান্না দেখালেও আরেক প্রতিবেশী উইঘুর মুসলিমদের ব্যাপারে তারা মুখে কুলুপ এঁটেছে। ডাবল স্ট্যান্ড হয়তো একেই বলে।


আপনার মন্তব্য