শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৫

সমস্যায় আক্রান্ত ঢাকা

সব সেবা সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনুন

সমস্যায় আক্রান্ত ঢাকা

সমস্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। রাজধানী ঢাকার নাগরিক জীবন সমস্যার গ্রন্থিজালে নাস্তানাবুদ হয়ে উঠছে। পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু পানির দেশ বলে পরিচিত বাংলাদেশের রাজধানীতে বিশুদ্ধ পানি অকল্পনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ওয়াসার পানির মান যেমন প্রশ্নবিদ্ধ তেমন জার ও বোতলের পানিও প্রতারণার উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সংকট রাজধানীর গৃহিণীদের জন্য সাক্ষাৎ মাথাব্যথা। দিনের বেলায় রান্না করা বহু এলাকায় এখন অসম্ভব ব্যাপার। ধূলিময় বায়ুর কারণে ঢাকা পৃথিবীর শীর্ষ বায়ুদূষণের নগরীর তকমা অর্জন করেছে একাধিক জরিপে। যানজট তো ঢাকার দেড় কোটি মানুষের জন্য নিত্য বিড়ম্বনার নাম। রাজধানীবাসীর প্রতিদিনের ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা কেড়ে নিচ্ছে যানজট নামের নিত্যকার অভিশাপ। রাজধানীবাসীর সেবার জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দায়বোধের মনোভাব না থাকায় এ মেগাসিটি ক্রমান্বয়ে বসবাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত হচ্ছে। রাজধানীর রাস্তাঘাটের নোংরা অবস্থায় সংশয় হয়, এ নগরীতে এসব দেখার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ আছে কিনা। উন্নয়নের নামে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিত্যকার ঘটনা বলে বিবেচিত হচ্ছে। উন্নয়নকাজ সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় বছরজুড়ে চলছে সীমাহীন ভোগান্তি। সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এক সংস্থার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ না হতেই একই রাস্তা আবারও খুঁড়ে চলে অন্য সংস্থা। রাজধানীর জলাশয়গুলো দূষণের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে একদিকে নাগরিক সচেতনতা অন্যদিকে কর্তৃপক্ষীয় নজরদারির অভাবে। সব মিলিয়ে রাজধানীকে অচল নগরীর দিকে ঠেলে দিতে যেন একজোট হয়ে কাজ করছেন তথাকথিত দায়িত্বশীলরা। দুনিয়ার মেগাসিটিগুলোর মধ্যে এ মুহূর্তে ঢাকা সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। অথচ নজরদারি কর্তৃপক্ষগুলো একটু দায়িত্বশীল হলে বিদ্যমান সমস্যার বেশির ভাগেরই ইতি টানা সম্ভব। রোধ করা সম্ভব অসহনীয় যানজট ও পরিবেশদূষণের সমস্যা। নগর জীবনের ভোগান্তি কমাতে সরকারের সদিচ্ছার অভাব না থাকলেও নজরদারির ঘাটতি থাকায় সমস্যা জিইয়ে রাখা হচ্ছে। এ অকাম্য অবস্থার দ্রুত অবসান কাম্য। রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তুলতে নগর সরকার গঠনের বিষয়ে ভাবতে হবে। সেবাদানকারী সব সংস্থাকে নিয়ে আসতে হবে এক ছাতার নিচে। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেÑ এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য