শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০৫

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড

এ সুফল ধরে রাখতে হবে

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড

নতুন বছরের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে। প্রবাসীদের কাছ থেকে এসেছে ৯৫৭ মিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনার সুফল হিসেবে দেখা হচ্ছে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ঘটনাকে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ হবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও এর সুফল অনুভূত হচ্ছে। গত বাজেটে হুন্ডির আগ্রাসন রোধে ব্যাংকিং খাতের রেমিট্যান্সের জন্য নগদ ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে এতকাল যারা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে হুন্ডির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তারা ব্যাংকিং খাতের দিকে ঝুঁকেছেন। এর সুফল হিসেবে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসীরা ৬ হাজার ১৫৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন; যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ১০৮ মিলিয়ন ডলার। গত অক্টোবরে ১ হাজার ৬৪২ মিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। আগের বছরের অক্টোবরে যা ছিল ১ হাজার ২৩৯ মিলিয়ন ডলার; স্থানীয় মুদ্রায় ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রবাসীরা যাতে বৈধ পথে অর্থ পাঠিয়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারেন এজন্য সরকার এ খাতে ২ শতাংশ হারে যে নগদ সহায়তা ঘোষণা করেছে; তা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন একজন প্রবাসী যতবার ইচ্ছা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পাঠাতে পারছেন। এতে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে যে কোনো সময় যে কেউ বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিনিয়ত প্রচার চালানো হচ্ছে। এর ফলে এ বছর রেমিট্যান্সে অনন্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণভোমরার ভূমিকা পালন করে রেমিট্যান্স আয়। এ আয়ের একাংশ হুন্ডির মাধ্যমে আসায় এর পরিপূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হতো দেশের অর্থনীতি। সেদিক থেকে প্রণোদনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়ে জোর দিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি সম্ভব হলে রেমিট্যান্স আয় অন্তত ৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে।


আপনার মন্তব্য