শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:০১

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার

ওদের শক্ত হাতে সামাল দিন

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতির জন্য সাক্ষাৎ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আনুমানিক হিসাবে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। এ অর্থ পাচার রোধ এবং তা দেশে বিনিয়োগ করা হলে দেশের অর্থনীতির অর্জন আরও সমৃদ্ধ হতো। সৃষ্টি হতো কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারের টাকায় সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হোটেল, মোটেল, লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, আবাসিক ভবন, ফ্ল্যাট কিনছেন পাচারকারীরা। কোথাও কোথাও পুরো মার্কেটও কিনে ফেলেছেন এই চক্রের সদস্যরা। ইউরোপের পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোয়ও অর্থ পাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, রাজনীতিবিদসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন পাচারকারীর তালিকায়। হুন্ডিকারবারি হিসেবে চিহ্নিত এমন প্রায় ২০০ জনের একটি তালিকা ধরে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। সরকারের বিভিন্ন তদন্তে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা অর্থে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশির বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তোলার তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। বিদেশ থেকে হুন্ডি হয়ে রেমিট্যান্সের বিপুল অর্থ দেশে আসায় তার পরিপূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারছে না দেশের অর্থনীতি। এ অর্থ বৈধ পথে রেমিট্যান্স হিসেবে এলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন শক্তিশালী হতো তেমন সে অর্থ বিনিয়োগে আনা সম্ভব হতো। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সদিচ্ছার অভাবে হুন্ডির মাত্রা কমানো যাচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হুন্ডি ঠেকাতে সরকার রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ায় বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বিদেশ থেকে এসেছে। প্রণোদনা না দিলে বর্ধিত অর্থ যে হুন্ডিচক্রের হাতে পড়ত তা সহজে অনুমেয়। হুন্ডি আইনত গুরুতর অপরাধ। দেশ থেকে অর্থ পাচারও বড় ধরনের অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে দেশে জুতসই কড়া আইন থাকলেও প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষগুলোর গাফিলতিতে তা কোনো কাজে লাগছে না। দেশের অর্থনীতির জন্য বিসংবাদ সৃষ্টিকারী হুন্ডি বা অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে দায়বদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। হুন্ডির মাধ্যমে যারা বিদেশে বিপুল অর্থকড়ি ও সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনাও জরুরি।


আপনার মন্তব্য