শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৮

এমএলএম প্রতারণা

আইন প্রয়োগকারীদের সুমতি চাই

প্রতারণার অভিযোগে সরকার এমএলএম বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছিল। আশা করা হয়েছিল এ পদক্ষেপে কাজ হবে। মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করার অনৈতিক ব্যবসা বন্ধ হবে। কিন্তু চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনি। প্রতারক যারা তারাও বন্ধ করেনি তাদের মানুষ ঠকানো ব্যবসা। এমএলএম বাণিজ্য নিষিদ্ধ হলেও তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কাগজে কলমে। এ আইন কার্যকরের দায়িত্ব যাদের, তাদের গাফিলতি শুধু নয়, মতলববাজির পরিণতিতে এমএলএম ব্যবসা আবির্ভূত হয়েছে বর্ণাঢ্য চেহারায়। খোদ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমজমাট হয়ে উঠছে অবৈধ এমএলএম প্রতারণা। সরকার এমএলএম বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেও নানা কৌশলে আর অভিনব সব পন্থায় চলছে এ প্রতারণা বাণিজ্য। আবাসনসহ নানা ব্যবসার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এর আড়ালেই চলছে এমএলএমের ফাঁদ। বহু নিরীহ মানুষ এসব ফাঁদে পড়ে হারিয়েছে সহায়-সম্বল। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা-পুলিশ ম্যানেজ করেই চলছে প্রতারণা ব্যবসা। এ কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। উল্টো তাদেরই হয়রানির ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে একটি আবাসন কোম্পানির নামে চলছে অবৈধ এমএলএম ব্যবসা। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ন্যূনতম ২০ হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অফেরতযোগ্য সদস্য ফি আদায় করেছে। জনপ্রতি ১২ হাজার ৩০০ টাকা করে অফেরতযোগ্য সদস্য ফি বাবদই সংগ্রহ করে নিয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। মোটা অঙ্কের লাভের প্রলোভন দেখিয়ে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আবাসন কোম্পানি বলে দাবি করলেও তাদের প্রকল্পগুলোর অবস্থান জানাতে পারছে না কেউ। রাজউক, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রকল্পের নিবন্ধন বা অনুমোদন নেই। সদস্যদের কল্যাণের গালভরা বুলি আওড়ালেও এমএলএম প্রতারকদের ওই প্রতিষ্ঠানটি এযাবৎ কোনো সদস্য বা গ্রাহককে এক চিলতে জমি বুঝিয়ে দেয়নি। এমএলএম প্রতারণার আদলে দেশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। রাজধানীতেও চুটিয়ে ব্যবসা করছে হরেকরকমের প্রতারক। এগুলো দেখার দায়িত্ব যাদের তারা প্রতারক চক্রের অনুগত হয়ে পড়ায় আইন তার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। পরিণতিতে প্রতারিত হচ্ছে বিশেষভাবে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ। যারা প্রতারকদের গালভরা বুলিতে আস্থা রেখে ঠকছে। রক্ত ঘাম করে অর্জিত অর্থের সবটুকু সঞ্চয় তুলে দিচ্ছে এমএলএম প্রতারকদের হাতে। জনস্বার্থে এ প্রতারণা ব্যবসা বন্ধ হওয়া দরকার। জনগণের প্রতি আইন প্রয়োগকারীদের আনুগত্যে যে ঘাটতি রয়েছে তা শোধরানো দরকার। সরকারকে এ ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।


আপনার মন্তব্য