শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৬

ব্যাংক ঋণের সুদ হ্রাস

বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে

ব্যাংক ঋণের সুদ হ্রাস

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশেষে ব্যাংক ঋণের লাগাম ছাড়া সুদের হারে লাগাম পরিয়েছে। বেঁধে দেওয়া হয়েছে সুদের হার। পয়লা এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্যান্য ঋণের সর্বোচ্চ হার হবে ৯ শতাংশ। সুদের এ হার ভালো গ্রাহকদের জন্য। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে যারা খেলাপি হবেন তাদের অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে দন্ডসুদ গুনতে হবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে ঋণের সুদহার বেঁধে দেওয়া হলেও ব্যক্তি আমানতের সুদহার নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। সার্কুলারে বলা হয়, লক্ষ্য করা গেছে যে, বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের উচ্চ সুদহার দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্পসহ ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের সুদহার উচ্চমাত্রায় হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প, ব্যবসা ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ঋণগ্রহীতারা যথাসময়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেন। ফলে ব্যাংকিং খাতে ঋণশৃঙ্খলা বিঘিœত হয় এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এ প্রেক্ষাপটে অশ্রেণিকৃত ঋণের ওপর সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। কোনো ঋণের ওপর ৯ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন, সে ক্ষেত্রে যে সময়ের জন্য খেলাপি হবেন অর্থাৎ মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি কিস্তি ও চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে মোট খেলাপি ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে দন্ডসুদ আরোপ করা যাবে। ব্যাংক ঋণের হার ১ অঙ্কে নামিয়ে আনার জন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির স্বার্থে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এ দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। এ কলামে বারবার মাত্রাতিরিক্ত সুদের বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সার্কুলারের ফলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন। পণ্যমূল্য সহনশীল করার ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ঋণের সুদহার সহনশীল মাত্রায় নামিয়ে আনার কারণে ঋণখেলাপির পরিমাণও কমবে। আমরা আশা করব, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যাংগুলোর ওপর বাইরের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের অবসান ঘটানো হবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতারক চক্রের কেউ যাতে সুবিধা না পায় তা নিশ্চিত করাও জরুরি।


আপনার মন্তব্য