শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪০

মহামারীর সময় বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছেন নবীজি

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মহামারীর সময় বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছেন নবীজি

রোগ-শোক আল্লাহর দান। আল কোরআনে আল্লাহ বলছেন, ‘আমি তোমাদের অসুখ-বিসুখ, অভাব-অনটন দিয়ে পরীক্ষা করব। যারা ধৈর্য অবলম্বন করবে তাদের জন্য আছে আনন্দময় ভবিষ্যৎ।’ অর্থাৎ জীবন নদীর স্বাভাবিক স্রোতেরই একটি অংশ রোগ-শোক। কিন্তু রোগবালাই যখন অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে, যখন একটি রোগ প্রায় সবাইকে আক্রান্ত করে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন তাকে মহামারী বলা হয়।

মহামারী কেন হয়? এর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর দিয়েছেন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই। তিনি বলেছেন, ‘যখন কোনো প্রজš§ অশ্লীলতা এবং আল্লাহ-দ্রোহিতায় সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন তাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ ও নতুন নতুন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ে। এমন এমন রোগবালাই তাদের আক্রমণ করে বসে যা ইতিপূর্বে পৃথিবীর বুকে আর কখনো দেখা যায়নি।’ ইবনে মাজাহ।

এ হাদিস থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি, পাপ কাজে সীমা লঙ্ঘনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলো নতুন নতুন রোগের বিস্তার। একে কেউ কেউ প্রকৃতির প্রতিশোধ আবার কেউ আল্লাহর গজব বলেন।

যদিও মহামারী প্রকৃতির প্রতিশোধ কিংবা আল্লাহর গজব তবে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে মোমিনের জন্য রহমত বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পৃথিবীবাসীর জন্য মহামারী শাস্তি। তবে বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য এটি রহমত।’ বুখারি। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেছেন, মহামারীর মধ্যেও আল্লাহ মোমিন বান্দাকে হেফাজত করেন। তখন মোমিন বান্দার বিশ্বাস আরও শক্ত হয়। আর যেসব মোমিন বান্দা দুর্বল ইমানের অধিকারী হয়, মহামারীর সময় তারা তওবাহ করে আল্লাহর রহমতের কোলে আশ্রয় নেয়। এ কারণে মহামারীকে মোমিনের জন্য রহমত বলা হয়েছে। কিন্তু অবিশ্বাসীরা না আল্লাহয় বিশ্বাস করে না আল্লাহর কোলে ফিরে আসে, বরং তারা কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করে জাহান্নামের পথে পাড়ি জমায়। এজন্য মহামারী তাদের কাছে শাস্তি হয়ে দেখা দেয়।

মহামারীর সময় আমাদের করণীয় কী? এ সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। ইবনে মাজাহর হাদিসে বলা হয়েছে, ‘পাপ কাজের কারণে মহামারী আসে। তাই প্রথম করণীয় হলো পাপ থেকে খাঁটি তওবা করা। আশা করা যায় আল্লাহ ক্ষমা করবেন।’ দ্বিতীয় দিকনির্দেশনাটি হলো, মহামারী আক্রান্ত এলাকা থেকে কেউ বের হতে পারবে না এবং ওই এলাকায় নতুন করে কেউ ঢুকতেও পারবে না। এক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহামারী এলাকা থেকে মৃত্যুর ভয়ে কিংবা আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে যাওয়া ভয়াবহ কবিরা গুনাহ।’ তিরমিজি।

মুহাদ্দিসরা এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, মহামারীর সময় সাধারণত ছোঁয়াচে ধরনের রোগ হয় বেশি। তখন এলাকায় নতুন কেউ ঢুকলে রোগে আক্রান্ত হবে। আর কেউ এ এলাকা থেকে পালিয়ে গেলে নিরাপদ এলাকায় রোগ ছড়িয়ে যাবে। এমনকি কোনো সুস্থ মানুষও মহামারী আক্রান্ত এলাকা থেকে বেরোতে পারবে না। ফকিহরা একে স্পষ্ট হারাম বলেছেন। যদি নিশ্চিত হওয়া যায় রোগটি ছোঁয়াচে নয়, সে ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশ কিছুটা শিথিল হবে আশা করা যায়।

যদিও মহামারী আল্লাহর শাস্তি, তবে মহামারীতে মৃত মোমিন বান্দারা শহীদি মর্যাদা পাবেন বলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পাঁচটি মৃত্যু শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা পাবে। মহামারীতে মৃত্যু, পেটের অসুখে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু এবং আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যু।’ বুখারি। শুধু মহামারী দেখা দিলেই নয়, সব সময়ই মহামারী থেকে প্রভুর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। এ সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোনাজাতে বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শ্বেত, কুষ্ঠ ও মাথা বিগড়ে যাওয়া এবং সব ধরনের দুরারোগ্য রোগ থেকে আশ্রয় চাই।’ আবু দাউদ।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন।


আপনার মন্তব্য