শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০

ইসলামে হত্যাকান্ড এক মহাঅপরাধ

মুহাম্মদ জিয়া বিন মহিউদ্দিন

ইসলামে হত্যাকান্ড এক মহাঅপরাধ

ইসলামে মানুষ হত্যাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করে তারা জঘন্য অপরাধী। গণহত্যা আরও বড় অপরাধ। আল্লাহতায়ালার যত সৃষ্টি রয়েছে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে মানুষ। মানব সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেছেন এবং মানুষকে এই জমিনে তাঁর প্রতিনিধি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা প্রতিনিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জানো না।’ সূরা বাকারা, আয়াত ৩০। মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আল্লাহ মানুষকে তাদের দান করেছেন সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি। আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।’ সূরা তিন, আয়াত ৪। শুধু তাই নয়, আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী হচ্ছে, এই বিশ্বজগতের সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন কেবল মানুষেরই জন্য। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জমিনের সবকিছু।’ সূরা বাকারা, আয়াত ২৯। আল্লাহ যেমন ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানবজাতির সুরক্ষা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন। একজন মানুষের জীবন, সম্পদ, মানসম্মান আল্লাহর কাছে এত দামি যে, কোরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে  নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল কোরআনে একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল।’ সূরা মায়েদা, আয়াত ৩২। অন্যদিকে একজন মানুষের জীবন রক্ষাকেও গোটা মানবজাতির জীবন রক্ষা বলে সাব্যস্ত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে।’ সূরা মায়েদা, আয়াত ৩২। যেহেতু একজন মানুষের জীবনের দাম এত বেশি, তাই এর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্যও প্রয়োজন কঠোর আইন ও বিধান। আর তাই আল্লাহ মানুষের জীবনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য কিসাসের মতো কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছেন। কিসাস হচ্ছে কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে এর শাস্তিস্বরূপ ঘাতককে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৮। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বুদ্ধিমানগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৯। আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যখন কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করে তখন সে এতটাই অপাঙ্ক্তেয় হয়ে যায় যে, সে পৃথিবীতে থাকার, মনুষ্যসমাজে বাস করার অধিকার হারায়। সে হয়ে পড়ে মানবসমাজের এক মরণঘাতী ব্যাধি, মানবসমাজ টিকে থাকার জন্য যার অপসারণ অপরিহার্য। আর অপসারণের কাজটিই হয় কিসাস তথা ঘাতকের মৃত্যুদ- কার্যকরের মাধ্যমে। ফলত, এ কথা সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, কোনো ঘাতকের মৃত্যুদ- কার্যকর মানেই অন্যান্য মানুষের নিরাপদ জীবন লাভ।

                লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য