শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ আগস্ট, ২০২০ ২৩:২১

কারও সঙ্গে বিরোধ হয়ে গেলে ক্ষমা চেয়ে নিন

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

কারও সঙ্গে বিরোধ হয়ে গেলে ক্ষমা চেয়ে নিন

নবীদের পর পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন হজরত আবু বকর ও ওমর (রা.)। একটি হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আবু বকর এবং ওমর যেমন নবীদের পর দুনিয়ায় সব মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তেমনি জান্নাতেও তারা নবীদের ছাড়া বাকি সবার নেতৃত্বে থাকবে।’ এ দুই মহান সাহাবির মধ্যে খুব বেশি ভাব ছিল। বন্ধুত্ব ছিল খুব গাঢ়। তবু এদের মধ্যে একদিন কিছুটা মনোমালিন্য ঘটে যায়। ঘটনাটি মুমিনদের জন্য শিক্ষণীয়ও বটে। প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) তারিখুল খোলাফা গ্রন্থে হজরত আবু বকর (রা.)-এর মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আসুন জেনে নিই সেই শিক্ষণীয় হাদিসটি। হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘একদিন আমি রসুলুল্লাহর দরবারে বসে আছি। এমন সময় আবু বকর এলেন। তাঁর মুখ অন্য দিনের মতো আনন্দোজ্জ্বল ছিল না। কেমন যেন বিষাদের কালিমাখা। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আমার আর ওমরের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়ে যায়। পরে আমি বুঝতে পারলাম, দোষ আমারই ছিল। আমি ওমরকে বললাম, হে ভাই ওমর! আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, ভুল আমারই হয়েছে। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কিন্তু ওমর আমাকে মাফ করতে চাইল না। আমি অনেক অনুরোধ করলাম আমাদের মনোমালিন্য মিটিয়ে ফেলার জন্য। ওমর কোনোভাবেই রাজি হলো না। এখন আমি আপনার কাছে এসেছি, আপনি তো সবই শুনলেন। আবু বকরের কথা শেষ হলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আবু বকর! আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। কথাটি তিনি তিনবার বললেন।’ বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘এরই মধ্যে ওমর আমাদের মাঝে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারায়ও লজ্জার স্পষ্ট ছাপ ছিল। ইতোমধ্যে তিনি আবু বকরের বাড়ি গিয়ে আবু বকরকে না পেয়ে রসুলুল্লাহর দরবারে আসেন। ওমরকে দেখে রসুলুল্লাহর চেহারায় রাগের আভা ফুটে ওঠল। আবু বকর বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আপনি ওমরের ওপর রাগ করবেন না। আসলে আমারই দোষ ছিল। রসুলুল্লাহ ওমরের দিকে তাকালেন। গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, আল্লাহ আমাকে নবুয়াতির দায়িত্ব দিয়ে তোমাদের কাছে যখন পাঠান তখন তোমরা সবাই আমাকে মিথ্যাবাদী বলে ত্যাগ করেছিলে, মারধর করে মাতৃভূমি-ছাড়া করেছিলে। ওই কঠিন সময়ে শুধু আবু বকর আমার ওপর ইমান এনে তাঁর সম্পদ ও জীবন দিয়ে আমাকে সাহায্য করে। সাবধান! তোমরা আবু বকরকে কষ্ট দিয়ে আমাকে কষ্ট দিও না। যদি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে বন্ধু বানানো আমার জন্য বৈধ হতো তাহলে আমি আবু বকরকে বন্ধু বানাতাম।’

প্রিয় পাঠক! এ ঘটনা থেকে একটি বড় শিক্ষা হলো, জীবনে চলার পথে আপনজন-বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বিরোধ -মনোমালিন্য হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু সে বিরোধ জিইয়ে রাখবেন না। বিরোধ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা মিটিয়ে ফেলুন। এর জন্য যদি নিজেকে ছোট করতে হয় কিংবা ক্ষমা চাইতে হয় তাই করুন। আবু বকর (রা.)-এর মতো বয়স ও মর্যাদায় বড় সাহাবি ওমর (রা.)-এর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা সে শিক্ষাই দিয়েছে উম্মতে মুহাম্মাদীকে।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন।

 


আপনার মন্তব্য