শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১৫

আমদানি প্রতিবন্ধতা

নেতিবাচক প্রবণতার অবসান হোক

করোনাকালে লকডাউনের প্রতিক্রিয়ায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল আমদানি-রপ্তানি তথা দুই ধরনের বৈদেশিক বাণিজ্য। লকডাউন প্রত্যাহারের পর গত তিন মাসে রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এলেও আমদানি বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কাটছে না। গত জুনের পর থেকে উদ্যোক্তারা শিল্পকারখানা পুরোদমে চালু রাখার চেষ্টা করলেও আমদানি বাণিজ্যে নানা ধরনের বাধাবিপত্তির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো আমদানি করতে না পারায় একদিকে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দানা বেঁধে উঠছে। ডলার সংকট, এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোর অনীহা, কাস্টমসে পণ্যছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিকারকদের অভিযোগ, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পণ্যের উৎপাদন ও মূল্য পরিস্থিতিতে। জুনের পর থেকে শিল্পকারখানা চালু হলেও ওই সময় ডলার সংকটের কথা বলে অনেক ব্যাংক এলসি খুলতে চায়নি। কোনো কোনো ব্যাংক এলসি খুলতে চাইলেও বিদেশি সাপ্লায়াররা তা গ্রহণ করেননি সময়মতো এলসির দেনা পরিশোধ না করার কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকট হ্রাস পেলেও ব্যাংকগুলোর সংরক্ষণশীল মনোভাবে আমদানি প্রক্রিয়া বিঘিœত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিল্পের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনতে হয়। আমদানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় করোনার সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা কাঁচামালের অভাবে পুরোদমে চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে ভোগ্যপণ্যের বাজারে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে ব্যাংকগুলোর মধ্যে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক মনোভাব কাজ করছে সে প্রবণতার অবসান ঘটাতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের তীক্ষè নজর থাকা জরুরি। শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে করোনাকালীন বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার যে চেষ্টা করছে দেশের অর্থনীতি তাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও দেখা দেবে বিপদ, যা এড়ানো সবারই কর্তব্য হওয়া উচিত।


আপনার মন্তব্য