শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:০১

দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ

এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে স্বাধীনতা-উত্তর চার যুগেরও বেশি সময়ের সেরা দুই অর্জনের একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই ভারত ও মিয়ানমার দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সুরাহা হয়। আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালের এ সংক্রান্ত রায় পক্ষে আনা এবং বাস্তবায়নের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্র এলাকার অধিকারী হয়। স্বাধীনতার পর যা ছিল সেরা অর্জন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে স্বল্পোন্নত দেশের লজ্জা ঝেড়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পা রেখেছে বাংলাদেশ। এর ফলে উন্নত দেশের কৃপাভোগী অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে সরে আসতে হবে। তার বদলে উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে অগ্রসর দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি গড়ে উঠবে। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার পর দেশের রপ্তানি আয় সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। গরিব দেশ বলে এতকাল অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকে যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়া হতো তা হারাতে হবে। তবে বাংলাদেশ দারিদ্র্যকে দূরে ঠেলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে এটা দেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। বিনিয়োগ বাড়ালে বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থান। স্বভাবতই বাড়বে মানুষের মাথাপিছু আয়। আয় বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। বিভিন্ন খাতে সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। স্বল্পোন্নত পর্যায়কে বহির্বিশ্বে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত ও সুদের হারও বেশি পড়ে। উন্নয়নশীলে উত্তরণের কারণে সে প্রতিকূলতা হ্রাস পাবে। মানব সম্পদ উন্নয়নে সচেষ্ট হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাবে।  এ জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নিতে হবে প্রস্তুতি।  আমলাতান্ত্রিকতার লালফিতার দৌরাত্ম্য থামাতে হবে।