শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৩৬

ঘাতক ডায়াবেটিস : সুরক্ষা ও করণীয়

ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ

ঘাতক ডায়াবেটিস : সুরক্ষা ও করণীয়

মানুষের কিছু কিছু অসংক্রামক দীর্ঘস্থায়ী রোগ দেখা দেয়, তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। সোজা কথায় ডায়াবেটিসে একবার আক্রান্ত হলে জীবনভর এ রোগ পালতে হবে। তাই সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এ রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা। আর কেউ যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েই থাকেন তাকে অবশ্যই জানতে হবে এর নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করতে হবে, না করলে কী জটিলতা হবে ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, একবার জটিলতা হয়ে গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ।

ডায়াবেটিস নামক ঘাতক রোগটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। পৃথিবীতে ২৮৫ মিলিয়ন মানুষ নীরব ঘাতক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং এর শতকরা ৭০ ভাগই দরিদ্র ও মধ্য আয়ের দেশগুলোয়। ২০৩০ সালে নাগাদ এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। আগে মানুষের গড় আয়ু ছিল অনেক কম। কলেরা, ডায়রিয়া, বসন্ত ইত্যাদি সংক্রামক রোগের আক্রমণে মানুষ মারা যেত বেশি, উজাড় হতো গ্রামের পর গ্রাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি, উন্নততর চিকিৎসা, নিরাপদ পানি ও খাদ্যের সরবরাহ, বিভিন্ন রোগের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে অনেক। তাই বয়সজনিত জটিলতা যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি এখন হয়ে উঠেছে বড় ঘাতক। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে খুব দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। মানুষের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম কমে যাচ্ছে, মানসিক চাপ বাড়ছে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হচ্ছে ইত্যাদি কারণে আনুপাতিক হারে ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। অধিক ক্যালরিসমৃদ্ধ ও অধিক চর্বি-শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খেলার মাঠের অভাব, বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা বা খেলাধুলার সংস্কৃতির বিলোপ, টেলিভিশন আর কম্পিউটার গেম ও ফেসবুক, শহুরে অলস জীবন, গাড়ি-লিফট-চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারের প্রবণতা। অনেক বাচ্চার বেলায় ছেলেবেলা থেকেই পড়াশোনার অত্যধিক প্রতিযোগিতা, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, খেলাধুলার প্রতি অনীহা বা পড়াশোনার ব্যস্ততায় সময়ের অভাব, মানুষকে আরও বেশি অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলছে আর বাড়াচ্ছে রোগব্যাধি।

গ্রামের শিশুদের ছেলেবেলার অপুষ্টি এবং বড় হয়ে শহরে অভিবাসনের পর অধিক পুষ্টির মন্দচক্রও এখানে ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী। সর্বোপরি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বেশি সংখ্যায় এ রোগ শনাক্ত হচ্ছে যা কয়েক দশক আগেও এত সহজ ছিল না।

আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে কি না অথবা ডায়াবেটিস হয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না বোঝার জন্য কিছু টিপস জেনে রাখুন। যে কোনো সময় কিছু সন্দেহ হলেই দ্রুত রক্তের সুগারটি মেপে নিন।

ডায়াবেটিসের মূল লক্ষণ যেমন অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, রাতে উঠে প্রস্রাব করতে হয়, প্রচুর খিদে পায় ইত্যাদি। 

আপনি সব সময় সুস্থ ছিলেন কিন্তু হঠাৎ মনে হচ্ছে ওজন কমে যাচ্ছে অথচ খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতোই চলছে এবং রুচি বা ক্ষুধাও বেশ বেশি, অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত।

যদি এমন হয়- দ্রুত ওজন হারাচ্ছে শরীর অথচ তার কোনো চেষ্টা করা হয়নি যেমন হাঁটাচলা, ব্যায়াম কিছুই হচ্ছে না বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা চলছে না, অযথা অকারণে ওজন কমছে তাহলে ধরে নিতে পারেন রক্তের সুগার বেড়েও যেতে পারে।

আপনি ভালো ছিলেন অথচ বেশ কিছুদিন যাবৎ বাড়তি ক্লান্তি বা অবসাদবোধ করেন।

বারবার ছোটখাটো অসুখ হচ্ছে যেমন শরীরে ঘন ঘন ফোঁড়া হচ্ছে, বারবার প্রস্রাবে ইনফেকশন হচ্ছে, জিবে সাদা সাদা ক্যানডিডার আক্রমণ, মহিলাদের যৌনাঙ্গে ঘন ঘন ছত্রাক জাতীয় রোগের আক্রমণ ইত্যাদি।

কোথাও সামান্য কাটাছেঁড়া বা ঘা হওয়ার পর তা দ্রুত শুকাচ্ছে না।

কারণে-অকারণে হাত-পা অবশ হয়ে আসে বা ভারী ভারী লাগে। এগুলোকে মেডিকেল টার্মে নিউরোপ্যাথি বলে যার অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস।

পায়ে ঘা হওয়া বা পায়ের আঙুলের মাঝে ছত্রাকের আক্রমণ।

যারা গ্রামেগঞ্জে খোলা জায়গায় প্রস্রাব করেন, সেখানে দেখা যায় পিঁপড়া আসছে।

ডায়াবেটিসের কারণে সমাজ হারাতে পারে কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় এক তরুণ যুবা প্রজন্মকে, যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক মন্দ প্রভাব গোটা জাতিকে স্থবির করে দেবে। আরও যোগ হবে অন্ধত্ব, স্নায়ুর রোগ, কিডনি ও হƒদযন্ত্র বিকল হওয়া, পা কাটা যাওয়া ইত্যাদি। এতে হাজার হাজার রোগী নিজেদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে, পরিবার ও সমাজের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই এ ব্যাধিকে প্রতিহত করতে হবে এবং প্রতিরোধ করার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ডায়াবেটিসজনিত অকালমৃত্যু ও পঙ্গুত্বকে প্রতিরোধ করতে হলে গোড়ায় ঠেকানো ছাড়া বিকল্প নেই। শুধু জীবনযাত্রার একটুখানি পরিবর্তন, একটু সচেতনতা ও সদিচ্ছা শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে।

রোগটি যেহেতু চিরজনমের তাই এ রোগে যাতে আক্রান্ত না হতে হয় সে লক্ষ্যে রোগ হওয়ার আগেই একে প্রতিরোধ করাটাই জরুরি। অর্থাৎ রোগটি আদতে না হতে দেওয়া। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্র সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। এর মাধ্যমে রোগ দূরে রাখা সম্ভব। নিচের কিছু টিপস মেনে চললে এ দানব থেকে মুক্তি সম্ভব-

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময় ও পরিমাণমতো খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ছোটবেলা থেকেই বেশি বেশি সবুজ শাকসবজির সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ খেতে হবে। কম চর্বি ও কম শর্করাযুক্ত খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি পরিহার বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, শরবত, গ্লুকোজ, পায়েস ইত্যাদি কম খেতে হবে। ধূমপানের বিরুদ্ধে যেমন গণসচেতনতা গড়ে উঠেছে তেমনিভাবে মন্দ খাদ্যাভ্যাসের বিরুদ্ধেও সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার।

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের বিকল্প নেই। অবশ্যই রোগীদের নিয়মিত কায়িক শ্রম এবং যত অল্পই হোক সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটাচলা, হাটবাজারে কোথাও গেলে অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করা, অল্প কয়েক তলার জন্য লিফট ব্যবহার না করা ইত্যাদি। আরও সম্ভব হলে সাঁতার বা জগিং করা, ব্যায়ামাগারে গিয়ে সুশৃঙ্খল ব্যায়াম করা। মোট কথা নিজেকেই ঠিক করে নিতে হবে কী ধরনের ব্যায়াম করবেন, কী করতে পারবেন। শিশু, কিশোর ও বয়স্ক সবার মধ্যেই কায়িক শ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলার মাঠ ছাড়া কোনো স্কুল-কলেজ থাকতে পারবে না। পাড়ায় পাড়ায় থাকবে পার্ক বা খোলা জায়গা, হাঁটার উপযোগী ফুটপাথ এবং সর্বোপরি নিরাপদে হাঁটার পরিবেশ।

জেনে রাখা ভালো, ব্যায়াম মাংসপেশির জড়তা দূর করে, রক্ত চলাচলে সাহায্য করে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং নিঃসরণ বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের ভালো কলেস্টেরল কম থাকে, যা করোনারি হার্ট ডিজিজের একটি বড় ঝুঁকি বলে স্বীকৃত। ব্যায়ামের মাধ্যমে একে বাড়ানো যায়।

একবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে গেলে তা হয়ে যাবে আজীবনের রোগ। তাই এ রোগটি যাতে না হয় তার জন্যই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একবার এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে সারা জনম একে নিয়েই রোগীকে বাঁচতে হয়। এজন্যই প্রয়োজন রোগটি সম্পর্কে জানার যথাযথ শিক্ষা। একবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে গেলে সচেতন রোগীকে নিজেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে জীবনপ্রণালি সহজভাবে গ্রহণ এবং যে কোনো জরুরি অবস্থা সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান রাখতে হবে। রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে অবগতি, কখন কেন রক্তের চিনি পরীক্ষা করা জরুরি, শনাক্তকরণ পরীক্ষার সহজলভ্যতা ও ব্যয় সংকোচন- এ বিষয়গুলো সবার জানা উচিত।

এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে পাঠ্যপুস্তকে সঠিক জীবনাচরণ সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্তি, মিডিয়ার ব্যবহার, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক নেতাদের প্রশিক্ষণ, সমাজকর্মীদের সচেতন করে তোলা, সচেতনতা ক্যাম্প ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীর জীবনকাঠি হলো শৃঙ্খলা। এর মানে সবকিছু নিয়মমাফিক মেনে চলা, যেমন খাওয়া-দাওয়া, ঠিকমতো হাঁটাচলা বা ব্যায়াম, ওষুধপথ্য নিয়মমাফিক ব্যবহার করা ইত্যাদি। যারা শৃঙ্খলা মেনে চলে তারা যেমন ডায়াবেটিস হওয়া থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন, এমনকি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে একে নিয়ন্ত্রণে রাখাও খুবই সহজসাধ্য হবে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন যেমন সম্ভব তেমনি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগীর জন্য প্রতিনিয়ত বয়ে আনা সমস্যা থেকেও বাঁচা সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক অবস্থায় রোগের জটিলতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে এবং এগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আরও বাড়তি সমস্যা থেকে বাঁচা সম্ভব। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না দেখার জন্য মাঝেমধ্যে রক্তের সুগার টেস্ট করাতে হয়। গ্লুকোমিটার দিয়ে বাড়িতে বসে সহজেই তা করা যায়। এসব ছোট মেশিন অল্প দামে আমাদের দেশেও পাওয়া যায়। অভুক্ত অবস্থায় রক্তের সুগারের পরিমাণ ৬ মিলিমোল এবং খাওয়ার পরে ৮ মিলিমোল কাছাকাছি হলে ভালো নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করতে হবে। রক্তের HbA1c মেপেও নিয়ন্ত্রণের ধারণা করা যায়। HbA1c ৭ শতাংশ নিচে হলে তিন মাস ধরে সুগার ভালো নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

চল্লিশ-পরবর্তী সব নাগরিকের মাঝেমধ্যে রক্তের সুগার পরীক্ষা করা জরুরি। স্থূলতা, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি ঝুঁকি থেকে থাকলে তাদের এ ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। গর্ভবতী হলে অবশ্যই রক্তের সুগার পরীক্ষা করাতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসা একটি সমন্বিত, সামাজিক পদক্ষেপ। সরকার, চিকিৎসক, কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারও একার পক্ষে কখনো এ বিপুল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রতি স্তরে, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে একে প্রতিরোধের জন্য। আসুন একটি সুস্থ, কর্মোদ্যম ও প্রাণবন্ত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই মিলে এ নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।

একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে রোগী যেমন চিকিৎসা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখবেন সঙ্গে মাঝেমধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাও গ্রহণ করবেন। রোগীদের মনে রাখতে হবে, বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা এবং এ দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসার পথিকৃৎ প্রফেসর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মূল তিনটি বিখ্যাত উপদেশই আপনার চিকিৎসার মূলমন্ত্র। তা হলো ইংরেজিতে তিনটি ‘ডি’।

প্রথম ‘ডি’ - ডায়েট বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ। ৬০ থেকে ৮০ ভাগ রোগী এতেই ভালো থাকেন।

দ্বিতীয় ‘ডি’ - ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা (সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি)।

তৃতীয় ‘ডি’ - ড্রাগ বা ওষুধ, খুব অল্পসংখ্যক রোগীরই এর প্রয়োজন পড়বে।

আবারও মনে রাখতে হবে, প্রথম ও দ্বিতীয় ‘ডি’ অর্থাৎ শৃঙ্খলা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ডায়াবেটিস ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, ওষুধের ভূমিকা এখানে কম। আবার প্রথম দুটিকে বাদ দিয়ে শুধু ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে গেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা খুবই দুরূহ হয়ে পড়ে।

পরিশেষে বলতে চাই, আধুনিক পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক, কর্মময় জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই আসুন ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানি, এ সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করি, সুশৃঙ্খল-জীবন যাপন করি।

লেখক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।


আপনার মন্তব্য