শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মে, ২০২১ ২৩:২১

ইয়াসের আঘাত

বেড়িবাঁধ নির্মাণে জোচ্চুরি বন্ধ হোক

Google News

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না হেনে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ধামড়া ও বালেশ্বরের মধ্যভাগে আঘাত হেনেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম বাংলা ও বাংলাদেশে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা-ও এক কথায় বিশাল। পশ্চিমবঙ্গে নিহতের সংখ্যা মাত্র একজন হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় কোটি মানুষ আর বাংলাদেশে সে তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা সীমিত হলেও ঝড়ে মারা গেছে চার শিশুসহ সাতজন। দেশের উপকূলভাগের ৯ জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জলোচ্ছ্বাসে। বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রতি বছর যে শুভঙ্করের ফাঁকি হয় তার কুফল অনুভূত হয়েছে ইয়াসের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে। উপকূলীয় ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়েছে বিপুল এলাকা। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের। লবণপানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। জলোচ্ছ্বাসে গোটা সুন্দরবন ৪ থেকে ৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ ছাড়া বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল জোয়ারে ভোলার ৪০টি চরের মধ্যে অন্তত ৩০টি চর ৬ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে। এসব চরের ২ লাখের মতো লোক নিরাপদ স্থানে ঠাঁই নিয়েছে। ইয়াস বুধবার সকালে ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম শুরু করে। সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগ বা চোখ বালাশোরের কাছ দিয়ে পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসে। তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার; যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। বেড়িবাঁধ নির্মাণে পুকুরচুরির ঘটনায় সরকারি অর্থের ৯০ শতাংশই অপচয় হয়। দুর্গত এলাকার মানুষের দাবি সাহায্য নয়, বেড়িবাঁধ ঠিকমতো তৈরি করা হোক। আমরা এ কলামে বারবার বলেছি দেশের সর্বত্র বেড়িবাঁধ নির্মাণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তেমনটি হলে অর্ধেকেরও কম অর্থে টেকসই বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হবে। বন্ধ হবে পানি উন্নয়ন কর্মকর্তাদের চুরি-জোচ্চুরি। জনগণ ও চোর কার স্বার্থ রক্ষা করা হবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকেই।