শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ আগস্ট, ২০২১ ২৩:২৩

দাতব্যশিল্প : কভিড সাহায্য প্রতারণা

মধ্যমণিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী আর অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি আর্মি জেনারেল

প্রতিদিন ডেস্ক

দাতব্যশিল্প : কভিড সাহায্য প্রতারণা
Google News

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে (চীন ছাড়া) ‘ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের কল্যাণে কাজ করছে’ ভঙ্গি দিয়ে মানবতাবাদীদের থেকে অর্থ সংগ্রহের পর আত্মসাতের কাহিনি ফাঁস করে দেয় এশিয়ার প্রথম ডিসইনফো ল্যাব নামক ডিজিটাল গবেষণা সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হচ্ছে ভুয়া সংবাদ আর প্রচারণার ব্যাপারগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা। এ পর্যায়ে সম্প্রতি ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা প্রতারণায় লিপ্ত তাদের কুকীর্তি প্রকাশ ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে সম্বল করে বাংলাদেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এক লেফটেন্যান্ট জেনারেল কী কী অনাচার করেছে তার বর্ণনা দেয়। ‘দাতব্যশিল্প : কভিড সাহায্য প্রতারণা’ শীর্ষক সেই প্রতিবেদন ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বাংলাদেশ প্রতিদিন আজ (১৪ আগস্ট) থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে।

ইমানা (IMANA), লাঞ্চ গুড (Launch Good), সাইয়েদ ফাউন্ডেশন (Saiyed Foundation) এবং এ রকম আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের রহস্যময়তা নিয়ে ডিসইনফো ল্যাব যেসব প্রশ্ন তুলেছিল, তার কিছু না কিছু জবাব পাওয়া যাবে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তারা উটপাখি হয়ে গেছে। যত টাকা তারা সংগ্রহ করেছে তার ব্যবহার বিষয়ে পরিষ্কার ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। তারা অসংগতিপূর্ণ কিছু কাজ করেছিল যার মধ্যে ছিল-

১. ইমানার লোগোর রং ছিল সবুজাভ, সেটাকে নীলাভ করে ফেলল।

২. ইমানার দ্বারা সম্পাদিত ও পরিচালিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিবরণবিহীন এক দীর্ঘ তালিকা উপস্থাপন করেছিল।

৩. ইমানার সভাপতি কোটি কোটি ডলার লোপাট হওয়ার পর ইসলাম আতঙ্কের ব্যাপারে তার জ্ঞান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল।

৪. সাইয়েদ ফাউন্ডেশন মুম্বাই বন্দরের মাধ্যমে দাবিকৃত একটি চালানের জন্য আহমেদাবাদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।

৫. সাইয়েদ ফাউন্ডেশন এবং অন্যরা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের ঠিকানায় তাদের প্রোফাইল উপস্থাপন করেছে। ধারণা করা যায়, এ সার্কাস আরও কিছুদিন চলবে। তারা হয়তো ভাবে, যদি তারা প্রতিবেদন ও প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করে এবং বিচ্যুতি অবলম্বন করে তাহলে এটি জনমানুষের স্মৃতি থেকে ম্লান হয়ে যাবে এবং তারা যা খুুশি তা-ই করতে থাকবে। তারা চিহ্নিত সহযোগীরাই এমন পরামর্শ দিয়ে থাকতে পারে।

অতএব ত্রুটিপূর্ণ যে রিপোর্ট এবং তার মধ্যে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া পর্যন্ত জনসচেতনতা থাকতে হবে। যদিও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ও কট্টরপন্থি মুসলিমদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের কারণে ভারতের থেকে তারা কার্যত কোনো সাহায্য পায়নি। ভারতের নামে সম্প্রতি আর্থসামাজিক কল্যাণের জন্য তোলা অর্থের সার্থক ব্যবহারই কাম্য। ডিসইনফোল্যাব জানায়, অন্য বিকল্পগুলো আরও অনেক খারাপ।  আমাদের হাতে ‘লাঞ্চ গুড’-এর ব্যাপারে যেসব তথ্য-উপাত্ত এসেছে তাতে ভারতের নাম ভাঙিয়ে কভিড মোকাবিলার বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেছে। ডিসইনফোল্যাব বলছে, ‘এ প্রতারকদের প্রতিষ্ঠানগুলো দাতব্য বিষয়টিকে শিল্পে রূপান্তরিত করেছে। এ প্রতারণামূলক কর্মকান্ডসমূহ উন্নত বিশ্বের দায়মুক্তির প্রভাবেই চলছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, বৈশ্বিক সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত হচ্ছে। সন্ত্রাস অর্থায়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে মৌলবাদী আদর্শ প্রচারার্থে দাতব্য অর্থ সংগ্রহের একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

কভিড কেলেঙ্কারি, ২০২১-এর দ্বিতীয় অংশ হিসেবে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা দাতব্য সংস্থার বিষয়ে আগে যেসব তথ্য মিলেছিল তার চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ।

*কেলেঙ্কারি সতর্কতা : এ প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের করোনাভাইরাস দুর্যোগ মোকাবিলার অজুহাতে সারা বিশ্ব থেকেই অর্থ সংগ্রহ করছে। শুধু চীন থেকে অর্থ সংগ্রহের কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি। [‘সব মৌসুমের বন্ধুরাই পরস্পরকে ভালোভাবে বোঝে’]।