সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

তিস্তা পাড়ের দুঃখ

প্রতিশ্রুত চুক্তিই একমাত্র সমাধান

উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে তিস্তা নদী শুষ্ক মৌসুমে অস্তিত্বের সংকটে ভোগে এটি অনিবার্য এক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে বর্ষা মৌসুমেও দেখা দিচ্ছে বিপৎ। নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় বন্যা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই তিস্তায় দেখা দেয় পানি সংকট। নদীর সিংহভাগ স্থানে জেগে ওঠে চর। ঠিক এমন অবস্থায় উজানে অতি বৃষ্টির কারণে খুলে দেওয়া হয় ভারতের জলডোবার বাঁধ। আর তার প্রভাবে মঙ্গলবার পানির প্রচ- স্রোতে উত্তরের জনপদ লালমনিরহাটে দেখা দেয় আকস্মিক বন্যা। পানির তোড়ে ভেঙে যায় রাস্তাঘাট, বাড়িঘর স্থাপনা। লালমনিরহাটে তিস্তার পানি গত ৪-৫ দিনে নামলেও কমেনি নদীপাড়ের মানুষের ভোগান্তি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে এখনো জমে আছে বন্যার পানি। ভেঙেচুরে ল-ভ- হয়েছে পাকা সড়ক। সংযোগ সেতু ভেঙে চরের লাখো মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়া সড়কের পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ি মাটিতে পড়ে আছে মুখথুবড়ে। কোথাও কোথাও উপড়ে গেছে গাছপালা। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে অন্যের বাড়িতে। চরে আবাদ করা সব আগাম ফসলের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। কী করে চলবে তাদের বাকিটা সময় তা ভেবে তারা দিশাহারা। তিস্তার ঢলে অনেক পাকা ও কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিজ-কালভার্ট। কয়েকটি এলাকার বাঁধও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। তিস্তার পানি বণ্টনে ভারত বাংলাদেশের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক যুগ আগে এ বিষয়ে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দুই দেশ। কিন্তু প্রতিশ্রুত সে চুক্তি না হওয়ায় তিস্তা নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা এখন সর্বনিম্নে। উজান থেকে পানি ছাড়লে বন্যা অনিবার্য হয়ে উঠছে। আর শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটে হাহাকার দেখা দিচ্ছে তিস্তা অববাহিকায়। দুই দেশের বন্ধুত্বের স্বার্থে এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর