শিরোনাম
বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

বিশ্বজনীন চ্যালেঞ্জ

সব জাতিকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের এক সাধারণ আলোচনায় বলেছেন, দেশে টিকা উৎপাদন এবং অন্য দেশকে দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। জলবায়ু সম্মেলনেও তিনি টিকা উৎপাদনের আগ্রহের কথা বলে এসেছেন। টিকা তৈরিতে যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বলেছেন, টিকা উৎপাদন উন্মুক্ত করতে হবে। সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশ টিকা উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতিও রেখেছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই প্রাসঙ্গিক এবং তাৎপর্যের দাবিদার। করোনাভাইরাস বুঝিয়ে দিয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগেও মানুষ কতটা অসহায়। এ অসহায়ত্বের অবসানে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশের মতো সক্ষম দেশগুলোকে ছাড় দিতে হবে। বাংলাদেশ টিকা উৎপাদনের সুযোগ পেলে শুধু দেশের চাহিদা মেটানোই নয়, অন্য দেশেও সাশ্রয়ী মূল্যে রপ্তানির বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ মানসম্মত ওষুধ তৈরির সাফল্যের অধিকারী। উন্নত দেশগুলোয়ও রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় টিকা উৎপাদনে সংরক্ষণশীল মনোভাব মানব জাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। কোনো দেশে এ ভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বায়নের এই যুগে অন্য দেশেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু মানুষের জীবনহানি নয়, স্তব্ধ করে দিচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। বিশ্ব অর্থনীতিতেও তা ধস নামিয়েছে। এ বিপদ মোকাবিলায় টিকা সহজলভ্য করার বিকল্প নেই। টিকা নিয়ে বাণিজ্যের প্রত্যাশা মানব জাতির জন্য বিপদ ডেকে আনছে। বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নিজেদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বন্ধু দেশগুলোর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। সব দেশকে এ মনোভাবে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। বিশ্বকে ক্ষুধা ও দরিদ্রতার মুখে ঠেলে দিতে না চাইলে করোনাভাইরাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিশ্বজনীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব জাতিকে এক কাতারে এসে দাঁড়াতে হবে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর