শিরোনাম
বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

বিশ্ব ইজতেমা

বিভেদ নয় ঐক্যবদ্ধ হোন

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনকারী তাবলিগ জামাতের বিভক্তি এ জামাতের মর্যাদায় আঘাত হানছে। দাওয়াতি কার্যক্রমের বদলে যারা অন্তর্কোন্দলে লিপ্ত থাকাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তাদের প্রতি সাধারণ মুসল্লিদের মনোভাবেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইনশৃঙ্খলার জন্যও তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ইজতেমার দুইপক্ষকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য ধর্মমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন। স্মর্তব্য, এ বছরও তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের উদ্যোগে আলাদা আলাদাভাবে ‘বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এক গ্রুপের উদ্যোগে ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি এবং আরেক গ্রুপের উদ্যোগে ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা। তবে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভেদকামীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। গত রবিবার উত্তরায় সাদ পন্থিদের ওপর হামলা চালায় সাদ বিরোধীরা। এ হামলায় আহত এক মুসল্লিকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা দুই ভাগে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত সোমবার বিকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা-সংলগ্ন বাটাগেট রোডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ আয়োজিত ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রথম পক্ষ তাদের ইজতেমা শেষে যাতে মাঠ বুঝিয়ে দেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রথম পক্ষ যথাসময়ে মাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংঘাত এড়ানোর জন্যও দুইপক্ষের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মনোভাব প্রকাশ পায় সভায়। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। বিশ্ব ইজতেমা দুনিয়াজুড়ে সে পরিচিতিকে সমৃদ্ধি করেছে। কিন্তু দাওয়াতি কার্যক্রমে বিভেদের দানব থাবা বিস্তার করায় তাবলিগ জামাতে যেমন বিভক্তি এসেছে; তেমনি বিভক্তি এসেছে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনেও। এ বিভক্তি বিভেদকামী শক্তি যারা ধর্মের নামে জঙ্গিবাদের অনুশীলনে ব্যস্ত- তাদেরই সুযোগ করে দিচ্ছে। সে প্রেক্ষাপটে তাবলিগ জামাতের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় শীর্ষ মুরব্বিদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো উচিত।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর