মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

চিকিৎসাব্যবস্থা

আস্থার সংকট কাটাতে হবে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার অবসানে গুরুত্বারোপ করেছেন। গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, দেশের চিকিৎসার ওপর মানুষের আস্থা নেই। তাই মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায়। অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষ আস্থা না পেয়ে ঢাকায় চলে আসছে। সবখানেই একটা আস্থাহীনতা কাজ করছে মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্যসেবার মান এমনভাবে বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ আস্থার অভাবে না ভোগে। এজন্য তিনি স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাঁচ বছর আগে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা রোগী দেখার ক্ষেত্রে গড়ে ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন। অথচ সুইডেনের চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে সময় নেন গড়ে ২২ মিনিট। চিকিৎসক যত অভিজ্ঞই হন ৪৮ সেকেন্ডে রোগীর সঙ্গে কথা বলে রোগের বিষয় জানা এবং সুচিকিৎসা যে সম্ভব নয়, তা সহজেই অনুমেয়। তারপরও এটিই বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপরিচিত ও ব্যস্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। আমাদের দেশে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হয়। ৮ ঘণ্টা ডিউটির সময় এত রোগীর চিকিৎসা দিতে গেলে কোনোভাবেই সময় নিয়ে রোগী দেখা সম্ভব নয়। ইতিপূর্বে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের জরিপ প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রোগী দেখতে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ভারতে চিকিৎসকরা রোগী দেখতে গড়ে আড়াই মিনিট সময় দেন। রোগী দেখার জন্য ওই সময়ও কোনোভাবে পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসা খরচ সহনীয় হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ প্রতি বছর ভারতে যায় চিকিৎসার জন্য। এজন্য শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্ক দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আস্থার সংকট পুরো চিকিৎসাব্যবস্থার সুফলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। এ বেহাল অবস্থার অবসানে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

সর্বশেষ খবর