শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২০ ২১:২৭

ইন্টারভিউ → আজাদ আবুল কালাম

শ্রেষ্ঠ কাজটা আসলে কারও করা হয় না

শ্রেষ্ঠ কাজটা আসলে কারও করা হয় না

জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম। টেলিভিশন নাটকে সমানতালে কাজ করলেও কখনো ভুলে যাননি মঞ্চকে। নাটক, চলচ্চিত্রে তার শক্তিশালী অভিনয়দক্ষতায় দর্শকমন জয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনা দিচ্ছেন দক্ষ হাতে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল

 

কেমন আছেন? আপনার রচনায় ও নির্দেশনায় প্রাচ্যনাটের নতুন একটি মঞ্চনাটক আসার কথা ছিল। সেটির অগ্রগতি কেমন?

হুম, অনেক ভালো আছি। নতুন একটি মঞ্চনাটক নামানোর চেষ্টা করছি। নাটকটি লিখছি। আপাতত নাম ‘নবাব ৭১’। নাম পরবর্তীতে পরিবর্তনও হতে পারে। এপ্রিলে নাটকটি নিয়ে কাজ শুরু করব। এরপর মঞ্চস্থ করতে মাসদুয়েক সময় তো লাগবে।

 

বিটিভির একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন...

হুম, আমি ও সুবর্ণা কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাম ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’। নাটকটি লিখেছেন ও নির্মাণ করেছেন বদরুল আনাম সৌদ।

 

পারভেজ আমিনের ‘আগুন পাখি’ ধারাবাহিকে কাজ করছেন। এটির শুটিং কি শেষ?

না, শেষ হয়নি। শুটিং চলছে। এটি লেখক হাসান আজিজুল হকের দীর্ঘ উপন্যাস ‘আগুন পাখি’ থেকে নির্মিত দীপ্ত টিভির একটি মেগা ধারাবাহিক।

 

সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্র তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। সেটির কাজ কতদূর?

হুম... একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি। চিত্রনাট্য প্রস্তুতিসহ বেশির ভাগ কাজই এগিয়েছে। সামনে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত সব জানানো হবে।

 

একই সঙ্গে অভিনয়, নির্দেশনা, লেখালেখি এবং ভয়েজ ওভার কীভাবে সমন্বয় করেন?

এগুলো একেকটা একেক রকম; একই কাজ। সবই ধরা যায় অভিনয়। ভয়েজ দেওয়া একটা টেকনিক্যাল বিষয়। মঞ্চ বা ভিজুয়াল মিডিয়ায় অভিনয়, লেখালেখি বা নির্দেশনা যাই করি না কেন, সবই আমার কাছে এক। এসবই আলাদা কোনো কাজ বলে মনে হয় না। আসলে সবই এক কাজ, বিভিন্নভাবে করতে হয়।

 

টিভি নাটকে পেশাদারিত্ব সংকট আছে বলে মনে করেন?

অবশ্যই আছে! এতগুলো টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অথচ এগুলোতে কী চলবে আর কী চলবে না, সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। এর দায় কর্তৃপক্ষের। সবাইকে কেন টেলিভিশন চ্যানেল খোলার অনুমতি দিতে হবে? অন্যদিকে আমরা নিজেকে দক্ষ করে তোলার বদলে একে অন্যকে দোষারোপ করছি আর ভিখারির মনোভাব নিয়ে টিভি কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিচ্ছি। মন্দের ভালো খুঁজতে খুঁজতে মন্দের ভিতরে ডুবে গেছি।

 

মঞ্চে কাজ করার ক্ষেত্রে নতুনদের কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

প্রত্যেক মঞ্চকর্মীকে ধরেই নিতে হবে যে, তারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে এখানে এসেছে। সে এখান থেকে শুধু আনন্দটাই পাবে। সে যদি শুধু আনন্দ নিয়ে সেটিসফাইড থাকে, তাহলেই সে থিয়েটার করতে পারবে। অন্যথায় তার এটা স্থান নয়। এটা হচ্ছে একটা মিশন। মানসিক ও শারীরিকভাবে এখানে কাজ করার সাধনা থাকতে হবে।

 

মঞ্চকর্মীদের ভিজুয়াল মিডিয়ার প্রতি আকর্ষণকে কীভাবে দেখছেন?

ভালো করছে, খুবই ভালো করছে। কেন, সবাই গাড়িতে চড়বে-চালাবে আর সে বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে ঝুলে যাবে? তাদের মিডিয়ার ভালো ভালো প্রতিটি সেক্টরে ইনভলভ হওয়া উচিত, টিভি বা সিনেমায় যাওয়া উচিত। তাদেরই তো মূলত কাজ করা দরকার মিডিয়ার সব স্থানে।

 

আপনার কাছে আপনার শ্রেষ্ঠ কাজ কোনটি?

এটা বলা খুবই ডিফিকাল্ট। প্রতিদিনই নতুন নতুন কাজ করা হচ্ছে। তাই বলা যায় না একজন শিল্পীর কোনটা শ্রেষ্ঠ কাজ। শ্রেষ্ঠ কাজটা আসলে কারও করা হয় না, শ্রেষ্ঠ কাজের জন্য সে অপেক্ষা করে।


আপনার মন্তব্য