শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২০ ২২:১৯

ইন্টারভিউ → জাহিদ হাসান

স্বাধীনতার জন্য পরাধীনতা মেনে নিতে হয়

আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই পুলিশ ও আনসার বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, সাংবাদিকসহ সেবায় নিয়োজিত কর্মীকে

স্বাধীনতার জন্য পরাধীনতা মেনে নিতে হয়

নব্বই দশক থেকে এই সময়েও সবার প্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। যার নামটাই একটা ব্র্যান্ড। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। এক সময় মঞ্চেও দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক নির্মাণেও সপ্রতিভ। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অসংখ্য নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এই সময়ে এসেও কাজ করছেন বেশকিছু চলচ্চিত্রে। তবে করোনার এই ক্ষণে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন থেকে দূরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাসায় অবস্থান করছেন। এই জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল

 

 

কেমন আছেন? কোথায় আছেন, ঢাকা নাকি সিরাজগঞ্জ?

জি, ভালো আছি। পরিবারসহ ঢাকার ধানমন্ডির বাসায় আছি।

 

করোনার কারণে আস্তে আস্তে সব এলাকা লকডাউন হয়ে যাচ্ছে। আপনি কবে থেকে বাসায় রয়েছেন?

১৯ তারিখ থেকে। বলা যায় এক প্রকার গৃহবন্দী! এত দিন তো জীবনেও হাসপাতালে কিংবা বাসায় থাকিনি। কোনো কিছুই আর ভালো লাগছে না!

 

করোনার দিনে কীভাবে সময় কাটছে?

নামাজ পড়ছি, রান্নায় সহযোগিতা করছি, টিভিতে অনুষ্ঠান ও মুভি দেখছি আর বই পড়ছি। আর বউ, ছেলে-মেয়েকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছি। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মজার সব খেলা খেলছি। ওরাও খুব উপভোগ করছে। এভাবে কখনই ওরা আমার সান্নিধ্য পায়নি। আমিও সময় দিতে পেরে আনন্দিত।

 

অনেক দিন হয়ে গেল! মহামারী করোনা প্রাদুর্ভাব থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না...

এখন তো আরও মারাত্মক অবস্থায় আমরা। প্রথমদিকে ভেবেছিলাম দু-এক দিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু থামার তো কোনো লক্ষণই দেখতে পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন হয়ে গেল; কীভাবে যে প্রতিরোধ করা যায়, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। করোনার চরিত্র যে কেমন, তা আমরা কেউ ধরতে পারছি না যে প্রতিরোধ করব।

 

করোনা বিস্তারে কাকে দায়ী করবেন?

দায়ী তো আমরা নিজেরাই। বিদেশ থেকে প্রবাসী ও হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক বারবার দল বেঁধে এলো। যারা অসচেতনভাবে তাদের প্রবেশ করাল, তারাও দায়ী। তারা তো কোনো কিছুর পাত্তাই দেয়নি। ছিল না তেমন কোনো প্রস্তুতিও। আবার করোনা ইস্যুতে কোনো  মানুষই কারও সংস্পর্শে আসা উচিত নয়। কিন্তু কী হচ্ছে? আমরা দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা দিচ্ছি। গা ঘেঁষাঘেষি করে বাজার ও গণপরিবহনে উঠছি। আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না যে এই মহামারী এত দ্রুত এ দেশে প্রবেশ করবে। সব মিলিয়ে বেশ ভয়ে আছি। এখন অবশ্য একটু সমন্বয় হচ্ছে।

 

মানুষকে কেন সচেতন করা যাচ্ছে না?

সচেতন করতে পারছি না তা ঠিক নয়; দেশের মানুষই সচেতন হতে চাচ্ছে না! আমরা সব সেক্টরের মানুষ এখন বিভিন্নভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছি। টিভি, সামাজিক মাধ্যম, ফোন, মেসেজের মাধ্যমে আমরা সবাইকে সচেতনমূলক বার্তা দিচ্ছি। কিন্তু কিছু মানুষ কিছুই মানছেন না। তাদের লকডাউন করেও ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না। বাজার, রাস্তাঘাট, উপাসনালয়ে কথা না মেনে ভিড় করছেন। ভাইরাস এভাবেই বিস্তার হচ্ছে। আর মানুষ একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে। আমি বলব, নিজে একটু সচেতন হোন এবং অন্যকেও সচেতন করুন।

 

যারা মানুষের সেবায় নিয়োজিত তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?

আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই পুলিশ ও আনসার বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, সাংবাদিকসহ সেবায় নিয়োজিত কর্মীকে। কারণ, অন্যান্য দেশের তুলনায় তারা সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে আছে এই মুহূর্তে। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাউকে পেটায়ও তবু তাদের স্যালুট আমি জানাই!

 

নিজের সহশিল্পীদের কি খোঁজখবর নিচ্ছেন?

যতটুকু পারছি ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। যেটা এই মুহুর্তে খুবই জরুরি। এই সংকটময় সময়ে সবাই সবার পাশে থেকে মনোবল বৃদ্ধি করা দরকার।

 

একজন অভিনেতা হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অসহায় মানুষের পাশে কীভাবে থাকছেন?

যতটুকু পাশে থাকার, নিজের মতো করে ততটুকু চেষ্টা করছি। আমি বরাবরই কিছু করলে প্রকাশ করতে চাই না। গোপনে যা করি, তা প্রকাশ করা ঠিক নয়। শাহরুখ খানের মতো এত টাকা দিতে পারিনি; তবে যা পেরেছি করার চেষ্টা করেছি।

 

অভিনয়শিল্পী সংঘ অসচ্ছল শিল্পীদের পাশেও দাঁড়িয়েছে...

হুম, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্বল্প আয়ের শিল্পী ও কলাকুশলীদের দিকে। এটা অবশ্যই ভালো দিক।

 

করোনা সচেতনতায় ভক্তদের উদ্দেশে কোনো বার্তা আছে?

আমরা স্বাধীন। এভাবে থাকতে চাই না। থাকাও সম্ভব নয়। তবু বলব ঘরে থাকুন। কিছু কিছু সময় ভালো স্বাধীনতার জন্য পরাধীনতা মেনে নিতে হয়। জানি, এই সময়ে করোনার সঙ্গে ফাইট করে আমরা পারব না; পরে হয়তো পারব। সেই সুসময়ের জন্য অপেক্ষা করি। বাসায় থাকি, হাত বারবার সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভালো করে ধুই। সবার থেকে কিছুদিনের জন্য দূরে থাকি। খাবার অপচয় যেন না করি। খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াই। কারণ, এরা এখন কর্মহীন। নিজেদের অসহায় আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজখবর নেই। সবাই একসঙ্গে দূরে থাকি, একসঙ্গে বাসায় ভালো থাকি।


আপনার মন্তব্য