শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২১ ২২:১৯

নাটকের মজার মানুষ

নাটকের মজার মানুষ

প্যাকেজ নাটক চালুর হওয়ার পর রোমান্টিক, সিরিয়াস ধারা থেকে বেরিয়ে বিনোদন দেওয়ার অন্যতম খোরাক হয়ে ওঠে কমেডিনির্ভর নাটক। ইদানীং তো নাটক মানেই কমেডিনির্ভর। নাটকে অভিনয় করা কিছু মজার মানুষ নিয়ে লিখেছেন- পান্থ আফজাল

সোনালি সময়ে মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখত নাটক ও তাদের প্রিয় অভিনয়শিল্পীদের। সে সময় নাটকে যাঁরাই অভিনয় করেছিলেন, পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। প্যাকেজ নাটক প্রচার শুরু হওয়ার পর এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল আসার পরও কিছু কিছু ধারাবাহিক নাটক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একটি নাটকের চরিত্র দর্শকদের কাছে কতটা আপন হতে পারে তা ‘কোথাও কেউ নেই’র বাকের ভাই চরিত্রটি দেখলেই টের পাওয়া যায়। বাকের ভাইয়ের সঙ্গী বদি চরিত্রে আবদুল কাদের কমেডি অভিনয়ে ছিলেন অনবদ্য। হুমায়ূন আহমেদের প্রায় সব নাটকের চরিত্রই ছিল জনপ্রিয়। তাঁর নাটকে মজার চরিত্রে অভিনয় করে আজও সবার কাছে সমাদৃত হয়ে আছেন চ্যালেঞ্জার, সালেহ আহমেদ, আমিরুল হক চৌধুরী, মোজাম্মেল হক, আবুল খায়ের, আলী যাকের, হুমায়ুন ফরীদি, আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, ডা. এজাজ, ফারুক আহমেদ, রিয়াজ, মাজনুন মিজান, স্বাধীন খসরু, মনিরা মিঠু, মাহফুজ আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, শিলা আহমেদ, মাহমুদা খাতুন, আফজাল শরীফ, রিয়াজ, জাহিদ হাসান, শামীমা নাজনীনসহ অনেক তারকা। সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘রঙের মানুষ’র চরিত্রগুলো অনেকেই মনে রেখেছে। সেই সময় এ টি এম শামসুজ্জামান, রোমানা, তানিয়া আহমেদ, সালাহউদ্দিন লাভলু, সমু চৌধুরী, প্রাণ রায়, আয়েশা মুক্তি, বন্যা মির্জা, ফজলুর রহমান বাবু, আনিসুর রহমান মিলন এদের অভিনয় মুগ্ধ করে সবাইকে। লাভলুর নির্মাণে ব্যস্ত ডাক্তার, গরুচোর, ভবের হাট, সাকিন সারিসুরি, পাত্রী চাই, হাড় কিপ্টা নাটকের প্রতিটি চরিত্র ছিল উল্লেখ করার মতো। এসব নাটকের মধ্যে চঞ্চল চৌধুরী, শাহানাজ খুশি, আমিরুল হক চৌধুরী, আ খ ম হাসান, আলভি, সিদ্দিকের মজার অভিনয় দর্শককে বিনোদিত করে। এই সময়েও বেশকিছু নাটকে চঞ্চল চৌধুরী, শাহানাজ খুশি, বৃন্দাবন দাস, ফারুক আহমেদের চরিত্র মানুষ গ্রহণ করেছে। তাঁদের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয় দর্শক। এরপর আসা যাক কমেডি কিং মোশাররফ করিমের চরিত্রগুলোয়। এই অভিনেতা তাঁর অভিনয়গুণে দুই বাংলাসহ মধ্যপ্রাচ্যে দারুণ জনপ্রিয়। তাঁকে নিয়ে অনেক নামনির্ভর নাটক নির্মিত হয়েছে, যেগুলো দর্শককে মুগ্ধ করেছে। তবে সময়, পরিস্থিতির কারণে অনেক মানহীন নাটকও তিনি উপহার দিয়েছেন সত্য। সেগুলো ছাপিয়েও তিনি এখনো কমেডি নাটকের শীর্ষ অভিনেতা। এখন তো পুরো টিভি ইন্ডাস্ট্রি হয়ে পড়েছে কমেডি আর ভাঁড়ামিনির্ভর। এরই মাঝে চঞ্চল চৌধুরী, আ খ ম হাসান, শাহানাজ খুশি, বৃন্দাবন দাস, শামিম জামান, প্রাণ রায়, আরফান আহমেদ, তারেক স্বপন, রোবেনা রেজা জুঁই কিছু ভালো নাটক দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। পর্দায় তাঁদের মজার অভিনয় ও রসায়ন আনন্দ দিয়েছে দর্শদের। টিভি নাটকে মোশাররফ করিম, আ খ ম হাসান, শামিম জামান, ফারুক আহমেদ ও আরফান আহমেদ একসঙ্গে থাকা মানেই বাড়তি কিছু। অন্যদিকে জাহিদ হাসান এই সময়েও নামনির্ভর নাটকে অভিনয় করে আলাদা দর্শক সৃষ্টি করেছেন। অভিনেতা মীর সাব্বির, নাদিয়া আহমেদ, অপর্ণা, অহনা, শহীদুল্লাহ সবুজ, আনন্দ খালেদসহ অনেকেই মজার চরিত্র করে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। ইদানীং কিছু নাটকের মজার চরিত্র সবার নজর কেড়েছে।

মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকে জিয়াউল হক পলাশ, এম এন ইউ রাজু, ফারুক আহমেদ, মনিরা মিঠু, সোহেল খান, মুকিত জাকারিয়ার মজার সংলাপ দর্শককে বিনোদিত করেছে। অন্যদিকে কাজল আরেফিন অমির নির্মিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ কিংবা  ‘ফিমেল’ নাটকের জিয়াউল হক পলাশ, মিশু সাব্বির, চাষী আলম, মারজুক রাসেল, শরাফ আহমেদ জীবন, শামিম হাসান সরকারের অভিনয় ভিউ আমলে ভিউপ্রেমী দর্শককে বিনোদন দিয়েছে। আফরান নিশো, মেহজাবীন, তিশা, অপূর্ব, সাবিলা, তাসনিয়া ফারিণ, কেয়া পায়েল, নিলয় আলমগীর, তানজিম অনীক, সহিদ উন নবী, সাফা, ফারিয়া শবনম, মুশফিক ফারহান, সীমান্ত সজল অনেক কমেডি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। যদিও আজকাল শুদ্ধ বাংলা ভাষার পরিবর্তে প্রচুর আঞ্চলিক ভাষায় কমেডি-ভাঁড়ামি নাটক নির্মিত হচ্ছে। যা কারও কাম্য নয়।


আপনার মন্তব্য