শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:২১
প্রিন্ট করুন printer

পৌষেও মিলবে সুমিষ্ট আম

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

পৌষেও মিলবে সুমিষ্ট আম

জৈষ্ঠ্য মাসের মধুফল আম যদি পৌষের শিশিরে ভিজে থাকে তাহলে একটু আশ্চর্য হতেই হবে। চোখ কপালে উঠলেও সত্যটা এমনি যে, বগুড়ায় এখন বারোমাসি আম চাষ শুরু হয়েছে। জেলার শেরপুর উপজেলায় ৩ বন্ধু মিলে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৯ হাজার বারোমাস আম চাষ করে ফলন পেতে যাচ্ছে। শীতকালেও আম চাষে সফলতা পাওয়ায় এলাকায় আম দেখতে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ।

বারোমাসি আম বাগানটি গড়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়াতাইর গ্রামে। প্রায় চল্লিশ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এই মিশ্র ফলের বাগান। এরমধ্যে আঠার বিঘাতে জমিতে বারোমাসি আম চাষ করা হয়েছে। সেখানে নয় হাজার আমের গাছ রয়েছে। সেসব গাছে মুকুল ধরেছে। আবার কোন কোন গাছে আম ঝুলছে। কোন গাছে কাঁচা আবার কোন গাছে পাকা আম। বারোমাসি এই বাগানচি গড়ে তুলেছে তিন বন্ধু মামুন রশিদ, সোহেল রেজা ও শহিদুল। এরমধ্যে মামুন ও সোহেল মাস্টার্স পাস করেছেন। আর এইচএসসি পাস করেছেন শহিদুল। বাগানটির নাম দিয়েছে ‘ফুল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’। এই ফার্মে আম ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার শীত সবজি, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের চাষও করে। 

তিন বন্ধু মামুন, সোহেল ও শহিদুল জানান, ২০০৫ সালে ছোট পরিসরে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর বাগানটি গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে আরও ৩৫বিঘা বিশ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে বাগানের পরিসর বাড়ানো হয়। তাদের বাগানে প্রায় ১৫ হাজার রকমারি ফলমূলের গাছ রয়েছে। এরমধ্যে বারোমাসি আম কার্টিমন ও বারি-১১, মাল্টা, পিয়ারা ও কুল। অন্যান্য ফলের উৎপাদন ভাল হলেও বর্তমানে বারোমাসি আম বিক্রিতে ব্যস্ত তারা। অসময়ে পাওয়া এই ফলের চাহিদাও বাজারে অনেক বেশি। তাই এই বগুড়া জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতেও এই আম বিক্রি হচ্ছে। 

পাইকারি আগে তিনশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এখন পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত এক লাখ টাকার আম বাগানে রয়েছে। সবমিলে এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। অনেকেই বারোমাসি আমের চারা কিনতে আসছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই মিশ্র ফলের বাগান থেকে এক কোটি টাকার আম, কুল ও পিয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

মিশ্র বাগানের উদ্যোক্তাদের একজন মামুনুর রশিদ জানান, তারা কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই ছোট বেলা থেকেই কৃষিকাজের তাদের প্রতি আগ্রহ ছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশসেরা কৃষক হিসেবে নির্বাচিত করে মামুনকে থাইল্যান্ডে ফুড প্রডাকশন ও ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। তিনি সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে আসেন। এরইমধ্যে সোহেল রেজা বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) থেকে বারোমাসি আম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া আরেক উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় গেলেও ২০০১ সালে দেশে ফেরেন। পরবর্তীতে এই তিন বন্ধু যৌথভাবে বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। এরপর আরও জমি লিজ নিয়ে সেখানে লাগান বারোমাসি আম, পিয়ারা, মাল্টা ও কুল গাছের চারা। সময়ের ব্যবধানে বাগানটিতে লাগানো রকমারি ফলমূলের পনের হাজার গাছ রয়েছে। সেসব গাছে উৎপাদিত ফল বিক্রিও শুরু হয়েছে। তবে তাদের মিশ্র ফলের বাগানের বারোমাসি আম বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক আব্দুর রহিম জানান, বারোমাসি আম চাষ বাড়ছে। তাই চাষীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই এই জাতের ফলের বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। যার দৃষ্টান্ত হচ্ছেন এই তিন শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তা। এই বারোমাসি আমের বাগান করে নিজেরা বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এ উপজেলায় মিশ্র ফলের বাগান বাড়ছে। তার দপ্তর থেকে পরামর্শসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় মাগুড়াতাইর গ্রামটিতে গড়ে ওঠা ফুল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের মিশ্র ফলের বাগানেও একইভাবে সহযোগিতা করছেন। শিক্ষিত তিন বন্ধুর এই মিশ্র ফলের বাগানটি মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৯
প্রিন্ট করুন printer

পটুয়াখালীতে গোলগাছে সফলতা

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীতে গোলগাছে সফলতা

দক্ষিণাঞ্চলের ফসল গোল গাছ। ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড় দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র অর্থকারী ফসল গোল গাছ। এ গাছের নাম গোলগাছ হলেও দেখতে কিছুটা নারিকেল পাতার মতো। নোনাজলে জন্ম, নোনা সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। অথচ এর ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়। সুস্বাদু এই গুড়ের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় শতাধিক কৃষক এ গাছে রস ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্রতি বছরই শীতের শুরুতে প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে কৃষক বেরিয়ে পড়েন এ গাছের রস সংগ্রহ করতে। এরপর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরির কাজ। সেই গুড় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে চলছে এসব কৃষকদের জীবন-জীবিকা। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাবসহ প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, চাষাবাদের জমি বৃদ্ধি এবং অসাধু একশ্রেণির বনকর্মীর কারণে ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে গোল গাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল সুন্দরবনসহ দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে গোলগাছ রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল, বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, ভোলা ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাসহ চরাঞ্চলে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করে থাকেন। এর রস দিয়ে সুস্বাদু পায়েস তৈরি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট গোল গাছের মালিকরা জানান, প্রতিটি গোলগাছের পাতাসহ উচ্চতা হয় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত। এর ফুল হয় হলুদ এবং লাল। গোলপাতা একটি প্রকৃতিনির্ভর পাম জাতীয় উদ্ভিদ। এই ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদটি নদী-খালের কাদামাটি আর পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয়। তবে গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। এতে কোনো পরিচর্যা করতে হয় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে প্রতিদিন সকালে কৃষকরা গোল বাগান থেকে সংগৃহীত রস বাড়ির উঠানে নিয়ে আসেন। আর সেই রস গৃহবধূরা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঢোঙ্গায় গোলের রস রাখনে। এরপর তাফালে কুটা দিয়ে আগুন ধরিয়ে রস দিয়ে তৈরি করেন গুড়। ওই গ্রামের সুনিতি রানী সকালে বাড়ির উঠানে রস থেকে গুর তৈরির কাজে ব্যস্ত। এসময় তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাবারে গুড়ে পাক ধরেছে। এখন কথা বলার সময় নেই। একটু বসতে হবে।

অপর এক গৃহবধূ বিথীকা বলেন, প্রতি বছর এই সময় রস জাল দিতে হয়। এ থেকেই তৈরী হয় গুড়। আগে অনেক বেশি গুড় হত। এখন কমে গেছে। নবীপুর গ্রামে গোল গাছ চাষি নির্মল গাইন বলেন, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে উঠে কলস নিয়ে বাগানে যেতে হয়। এরপর প্রতিটি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে রস সংগ্রহ করা হবে চৈত্র মাস পর্যন্ত।

একই গ্রামের পরিমল হাওলাদার বলেন, বাগানে ৪০০ ছড়া ধরেছে। প্রতিদিন সকালে ৮ এবং বিকালে ২ কলস রস হয়। এই থেকে  প্রায় ১০০ কেজি গুড় তৈরি করি।

গোল গাছ চাষি নিঠুর হাওলাদার বলেন, তার বাগান থেকে প্রতিদিন ৪ কলস রস বের হয়। এতে মোট ১৩ কেজি গুড় আসে। এ গুড় কেজি প্রতি ১০০ টাকা দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। তবে তাদের জীবিকার একটি অংশ বছরের এ সময়ে গোল গাছ থেকে আসে বলে তারা জানিয়েছেন।

বন বিভাগের কলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, এ উপজেলার চাকামইয়া, নীলগঞ্জ ও টিয়াখালীর ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ হাজার গোলগাছের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এ বছর আরো ২০ হাজার গোলগাছের বীজ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ গাছগুলো উপকূলীয় এলাকার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫১
প্রিন্ট করুন printer

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি

কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর:

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি

দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল আকারের হলুদ গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল। ফুলগুলো বাতাসে দোল খেয়ে যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার। তাই দিনভর সূর্যমুখী বাগানে ভিড় করছে হাজারো মানুষ। কেউ ছবি তুলছে, কেউবা পরিবার পরিজন নিয়ে বাগানে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি পিকনিকের কাজটিও সারছেন। 

সূর্যমুখী ফুলের মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্যটি দেখা মেলে ফরিদপুরের গঙ্গাবর্দী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) খামারে। এ খামারের বিশাল এলাকাজুড়ে রোপন করা হয়েছে কয়েক হাজার সূর্যমুখী ফুলের বীজ। বর্তমানে বীজ থেকে প্রতিটি গাছে ফুল ফুটেছে। যা দেখতে দুর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন এখানে। দুপুরের পর থেকেই সূর্যমুখী বাগানে নানা বয়সী মানুসের মিলন মেলায় পরিণত হয়। সূর্যমুখী ফুলের এ বাগানটি এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের একমাত্র দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে হাজারো মানুষের ভিড়ে বাগানটির রক্ষনাবেক্ষন করতে গিয়ে হিমশীম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের। বাগানের কিছুটা ক্ষতি হলেও সৌন্দর্যপ্রেমীদের কথা চিন্তা করে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ আগতদের তেমন কিছুই বলছেন না। তবে অনেকেই ফুল ছিড়ে ফেলার কারণে তারা অসন্তুষ্ট। 

বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত কয়েক বছর আগে তারা পরীক্ষামূলক ভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ শুরু করে। গত তিন বছর ধরে বিশাল এলাকাজুড়ে সূর্যমুখীর বাগান করা হচ্ছে। সূর্যমুখীর তেলকে জনপ্রিয় করতেই এ উদ্যোগ তাদের। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন আগ্রহী চাষীরা। পরামর্শ ও বীজ নিয়ে অনেকেই এখন সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করেছেন। দিনকে দিন ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে চাষীরা ব্যক্তি উদ্যোগে সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করেছেন। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র ফরিদপুরের উপ পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান স্বপন জানান, সূর্যমুখী বীজ একটি লাভজনক শস্য। তাছাড়া সূর্যমুখী তেলের নানাবিধ স্বাস্থ্যগত গুনাগুন রয়েছে। সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ জনপ্রিয় করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজসহ নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ফরিদপুরের বিএডিসি’র বাগানে ৪ একর জমিতে এবার সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৪০ মন বীজ উৎপন্ন হবে। এসব বীজ বিএডিসির মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৪৪
প্রিন্ট করুন printer

অতিথি পাখিতে রঙিন কুমিল্লার পুকুর-দিঘি

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা:

অতিথি পাখিতে রঙিন কুমিল্লার পুকুর-দিঘি

কুমিল্লার পুকুর-দিঘিতে ঝাঁকে ঝাঁকে নামছে অতিথি পাখি। বিশেষ করে শহরতলীর কয়েকটি পুকুওে নামছে নানা রঙের অতিথি পাখি। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার চম্পক নগর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি পুকুরে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি নেমেছে।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত চারপাশ। কিছু পাখি পুকুরে ভাসছে, পাশাপাশি কচুরিপানার ফাঁকে খাবার সংগ্রহ করছে। বিকালে পুকুর পাড়ে গিয়ে পাখির প্রদর্শনী দেখছে কিশোর-তরুণের দল।

পুকরের মালিক গাজী রিয়াজ মাহমুদ বলেন, গত তিন বছর ধরে অতিথি পাখিদের অভয় আশ্রম হয়ে উঠেছে এ পুকুরটি। পাখিগুলোর কেউ যেন তাদের ক্ষতি না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখি। 

ওয়াইল্ড ওয়াচ ইনফো কুমিল্লার পরিচালক জামিল খান বলেন, কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর,ছোটরা জলায় আগে অতিথি পাখি নামতো। পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় সেখানে পাখি নামে না। শীতপ্রধান দেশের পাখিরা অতিথি হয়ে আসে আমাদের দেশে। একটু উষ্ণতার আশায় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসে। খুঁজে নেয় নির্জন স্থান, জলাশয় ও বনাঞ্চল। দুর্ভাগ্যজনক হল, অতিথি পাখি এদেশে অতিথি হয়ে থাকতে পারছে না। শিকারীর হাতে তারা ধরা পড়ছে। পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কুমিল্লার পুকুর গুলোতে পাখি নামার পরিবেশ করে দেয়া উচিত। 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক অমিতাভ কুমার বাড়ৈ বলেন, সাইবেরিয়া,অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, তিব্বতের উপত্যকা অঞ্চল থেকে প্রতিবছর অতিথি পাখি আসে। পাখি গুলোর মধ্যে রয়েছে বালিহাঁস, রাজহাঁস, মানিকজোড়, গাংকবুতর, চিনাহাঁস, নাইরাল ল্যাঙ্গি, ভোলাপাখি, হারিয়াল, বনহুর, বুরলিহাস ও সিরিয়া পাতিরা প্রভৃতি। পাখি আবর্জনা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়া এর পায়খানাতে ফসফরাস রয়েছে। যা সবজি উৎপাদনে সহায়ক। পাখি রক্ষায় সবার ভূমিকা প্রয়োজন।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:২৭
প্রিন্ট করুন printer

মানবতার সেবায় 'আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন'

অনলাইন ডেস্ক

মানবতার সেবায় 'আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন'

প্রতি বছর শীতে দেশের দুর্গম স্থানের শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করে আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি ২০১৭ সালে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ৫০০ পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করে। ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের হাওরের ১৫০০ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

২০১৯ সালে দিনাজপুরের রাণীঘাট ইউনিয়নের ১৫০০ পরিবারের মাঝে শীতের ঊষ্ণ ভালোবাসা নিয়ে উপস্থিত হয় আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন। ২০২০ সালে রাঙ্গামাটির ১০০০ পাহাড়ি মানুষের শীতবস্ত্র ও খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, রংপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ ঢাকার আশে পাশের অনেক বস্তিতে প্রায় ৭০০০ এর মতো শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। শুরু থেকেই প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে একসাথে দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেষ্টা করে আসছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ধস এবং হাওরের বহু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করে তাদের বিপর্যয় কিছুটা হলেও লাঘব করবার চেষ্টা করেছে তারা।

প্রতিবছর ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার সময় দেশের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে অস্বচ্ছল পরিবারগুলোর মাঝে ঈদ আনন্দ বিতরণ কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত বহু পরিবারের মাঝে ঈদ আনন্দ বিতরণ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে গঠিত প্রকল্পে প্রায় ২০ জন মহিলাকে নিয়ে AMF Women Empowerment প্রকল্পের আওতায় এনে তাদের প্রশিক্ষণ ও এরপর তাদের তৈরী কাঁথা, চাদরসহ নানান হস্তশিল্প দেশের ও দেশের বাইরে অনলাইনে বিক্রয়ের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাদের নিজেদের ও পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা তৈরী করছে আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন।

আমরা মানুষ ফাউন্ডেশন রাস্তা পারাপারকারীদের ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার, রাস্তা পারাপার না করা, আশে পাশের বসবাসের এলাকা ও রাস্তাঘাট নোংরা না করবার জন্য উৎসাহ প্রদানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

কালিয়াকৈরে দূর-দূরান্ত থেকে উড়ে আসছে অতিথি পাখি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

কালিয়াকৈরে দূর-দূরান্ত থেকে উড়ে আসছে অতিথি পাখি

শীত আগমনের সাথে সাথে কালিয়াকৈরে বিল-ঝিলে দেখা মিলছে অতিথি পাখির। এসব পাখির কলকাকলি ও সুন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছে দর্শনার্থীরা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উড়ে আসা অতিথি পাখির দেখা মিলছে কালিয়াকৈর উপজেলার বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, বেনুপুর, বগাবাড়ী, মেদী আশুলাইসহ উপজলার বিভিন্ন জলাশয়ে সরালী, গার্গেনী, নীলকন্ঠসহ নানা প্রজাতীর অতিথি পাখির দেখা যায়। হাজারো পাখি ঝাকে ঝাকে এক সাথে দল বেধে পাড়ি দেয় তেপান্তর। সকালে সূর্য উদয় হওয়া থেকে শুরু করে গুধুলী বিকেল পর্যন্ত পাখির কল-কাকলিতে মূখর থাকে এসব বিল-ঝিল লেগ। তবে শিকারীর ভয়ে এখন আর অতিথি পাখি তেমন একটা দেখা যায় না। ফলে জীববৈচিত্রের সৌন্দর্য অপূর্ণতা প্রকাশ পায়। করোনারভাইরাসের কারনে ঘরকোণে থাকতে থাকতে প্রকৃতির খোলা আবহাওয়া তেমন একটা উপভোগ করতে পারা যায় না। তবে সকালে ও বিকেলে বাড়ির আঙ্গীনায় ডোবা, নালায় এসব অতিথি পাখির সুন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সপরিবারে ভিড় করছে নানা বয়সীর মানুষ। কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে সারা বছর অতিথি পাখিসহ নানা প্রজাতির পাখি আমরা দেখতে পেতাম। কিন্তু এখন কিছু শিকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত আইন বিধি লঙ্গন করে এসব পাখি শিকার করে বাহিরের দেশে বিক্রি করে দেয়। তাই এসব অতিথি পাখি আগের মতো দেখা যায় না। ফলে প্রাকৃতিক বৈচিত্রের সুন্দর্য বিলিন হওয়ার পথে। পাখি বসবাসের জন্য যে জলাশয় রয়েছে সেগুলো পানি শূন্যতার পাশাপাশি নদী-নালা, খাল-বিল মাটি দিয়ে বাধ দিয়ে পানি শূন্যতা করে ফেলেছে। এখন যদি বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত আইনে জলাশয় গুলো পূণরায় আগের মতো পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে যদি গড়ে তুলা যায়। তবেই জীববৈচিত্র আবার প্রাণ ফিরে পাবে এমটাই প্রত্যাশা করা যায়।

দেখতে আসা শফিক হোসেন জানান, প্রতিনিয়ত আমরা পরিবারের লোকজন নিয়ে  প্রকৃতির পাখি দেখতে আসি। অতিথি পাখি দেখে মনটা বড়ে যায়।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন জনান, পাখি আমাদের প্রাকৃতিক সুন্দর্য বাড়ায়। যেহেতু আমরা করোনার সময় পার করছি, তার জন্য যেসব পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে সেসব স্থানে যেন সকলেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রাকৃতিক সুন্দর্য উপভোগ করেতে বলা হয়েছে। আর এসব অতিথি পাখির কলগানে বিল-ঝিল লেগ মূখর রাখতে বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতিথি পাখিকে কেউ যদি বিরক্ত করে ও তাদেরকে হত্যা বা ক্ষতি করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর