শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মে, ২০২১ ১৪:৩৮
আপডেট : ৩১ মে, ২০২১ ১৪:৪০
প্রিন্ট করুন printer

যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড পরিস্থিতি

ডা. মাহবুবর রহমান

 
যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড পরিস্থিতি
মাহবুবর রহমান
Google News

যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কাছে জীবন হারিয়েছেন। করোনায় কোনো একক দেশে মৃত্যুর এই সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ নিজেকে রক্ষা করার সবধরনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে যুক্তরাষ্ট্র সুসজ্জিত। চাইলে যেকোন মুহূর্তে পৃথিবীর মানবসভ্যতা ধ্বংস করে দিতে সক্ষম! বাস্তবতার শিক্ষা হলো এই যে, ধ্বংস যত সহজ সৃষ্টি তার চেয়ে বহুগুণে কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড মহামারীর এই বিধ্বংসী চেহারার অনেক কারণ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতাই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা সদ্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নেতৃত্বাধীন প্রশাসন স্বাভাবিক কারণেই কোভিড মহামারী নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তব কর্মসূচি হাতে নেয়। করোনা নিয়ন্ত্রণে যেমন স্বাস্থ্যবিধি পালন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এর প্রতিরোধক ভ্যাকসিন। তাই নতুন প্রশাসন এ লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রেসিডন্ট বাইডেন কমপক্ষে ৭০% বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

আজ পর্যন্ত ৫৬% বয়স্ক আমেরিকান টিকার অন্তত এক ডোজ এবং ৪১% আমেরিকান টিকার ফুল ডোজ পেয়েছেন। যদি বাংলাদেশের কথা চিন্তা করি সেখানে টিকা প্রাপ্তির হার যথাক্রমে মাত্র ৩.৬% এবং ২.৫%, ভারতে তা যথাক্রমে ১২% এবং ৩.১%, নেপালে যথাক্রমে ৭.৪% এবং ২.৩%, সিঙ্গাপুরে ৩৭% এবং ২৮.৩%।

বাইডেন ঘোষিত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। জনগণকে উৎসাহ দিতে টাকাপয়সা প্রদাসহ নানা উদ্দীপক কর্মকাণ্ড হাতে নেয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে ফুল ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা হয়েছে। এই প্রথম এক বছরেরও বেশি সময় পর আমেরিকান জনগণ মাস্ক ছাড়া মুক্ত বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন। বুকের উপর চেপে বসা জগদ্দল পাথর অপসারিত হয়েছে।

তবে যারা এখনো ফুলডোজ টিকা নেননি, বা বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন তাদেরকে এখনো মাস্ক পরে থাকতে বলা হয়েছে। ইনডোর কার্যক্রম, বদ্ধ ঘরে বহিরাগতদের এখনো মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধান জারি আছে। আশা করা যায় যে, ৭০% জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় আনা গেলে জীবনের সর্বস্তরে আগের পরিস্থিতি ফিরে আসবে।

স্কুল কলেজ খুলে দিতে ১২ থেকে ১৫ বছরের বাচ্চাদেরকে ফাইজার টিকার আওতায় আনা হয়েছে। দুটো ডোজ দেয়া হলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দোকানপাট, মল খুলে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট খুলে দেয়া হয়েছে। ফুলডোজ টিকা দেয়া থাকলে ভ্রমণকে শর্তহীন করা হয়েছে। অর্থাৎ কোথাও ভ্রমণ করতে কোভিড পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয়েছে। তবে আমেরিকার বাইরের দেশ থেকে আসতে হলে কোভিড নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসতে হবে। নেগেটিভ থাকলে এখানে ঘোরাফেরা করা যাবে। তবে কোন কাজে যোগ দিতে চাইলে কোভিড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিন অত্যন্ত সহজ এবং বিনামূল্যে করা হয়েছে। চাইলে যে কেউ বাড়িতে বসেও হোম কিট দিয়ে কোভিড পরীক্ষা করে নিতে পারবেন। অসংখ্য সিভিএস ফার্মেসির মাধ্যমেও কোভিড পরীক্ষা করাতে এবং ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবেন।

ফাইজার ভ্যাকসিন ৯৫% পর্যন্ত কার্যকর এবং এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ভ্যাকসিনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ বিধায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ থেকে ১৫ বছরের বাচ্চাদের জন্য তা অনুমোদিত হয়েছে। 


লেখক : সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা