শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০৫

বধিরতার কারণ ও প্রতিকার

বধিরতার কারণ ও প্রতিকার

মানুষের জন্য শ্রবণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবেদন ক্ষমতা, যার মাধ্যমে আমরা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। শ্রবণক্ষীণতা ও বধিরতা মানুষকে সমাজে অগ্রহণযোগ্য করে ফেলে। শিশুর ভাষা শিক্ষা, লেখাপড়া ও সামাজিক যোগাযোগের জন্য স্বাভাবিক শ্রবণশক্তি অপরিহার্য। বধিরতার কারণে বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ কর্মহীন জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মাত্রার শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। ৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ প্রায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী, তাদের দুই কানেই সমস্যা। ১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ তীব্র বধিরতায় এবং শতকরা ১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ মারাত্মক বা সম্পূর্ণ বধিরতায় আক্রান্ত। বধিরতা সমস্যা মূলত হয় জন্মগত কারণে অথবা বিভিন্ন রোগ বা সমস্যার কারণে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মধ্যকর্ণের প্রদাহ, আঘাতজনিত সমস্যা, উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে সৃষ্ট বধিরতা। শব্দ দূষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার শব্দে হেডফোন দিয়ে গান শোনা, উচ্চমাত্রার হর্ন বাজানো, লাউডস্পিকারের শব্দ ইত্যাদি। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তারা কানে ঠিকমতো শুনতে পারে কিনা।

বধিরতার কারণ : ১. বংশগত, ২. প্রসবকালীন জটিলতা : কম ওজন, প্রিম্যাচুরিটি, বার্থ এসফ্যাক্সিয়া, নিউনেটাল জন্ডিস। ৩. সংক্রমণ : মায়ের গর্ভকালীন কিছু সংক্রমণ : সাইটো-মেগালো ভাইরাস, রুবেলা। শিশুর মেনিনজা-ইটিস, মাম্পস, মিসেলস, মধ্য কর্ণের সংক্রমণ। ৪. উচ্চ শব্দ : দীর্ঘকাল উচ্চ শব্দ-ক্ষতিকার ভলিউমে হেডসেট, মাত্রাতিরিক্ত শব্দ-আতশবাজির শব্দ। ৫. কানের ক্ষতিকর ওষুধ ৬. অন্যান্য অসুখ।

প্রতিরোধের কলাকৌশল : ১. টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, ২. শিশুদের শ্রবণ ক্ষমতা স্ক্রিনিং কর্মসূচি, ৩. স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষিত করা, ৪. হেয়ারিং ডিভাইস এবং থেরাপি সহজলভ্য করা, ৫. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ওটোটক্সিক ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার।

পরামর্শ : ১. কানে কোনো কিছুই ঢোকানো যাবে না। এমনকি কান পরিষ্কার করার জন্য কাঠি, মুরগির পালক বা কটন বাড ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। ২. খৈল জমে কান বন্ধ ভাব হলে বা কানের মধ্যে বাইরের কোনো বস্তু প্রবেশ করলে অপসারণ করতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানে তেল বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। ৪. কানে যাতে পানি না যায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। ৫. কানে সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তাই কানের সমস্যায় অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রাথমিক অবস্থায় সমাধান করতে পারলে জটিলতা এড়ানো যায়।

অধ্যাপক  ডা. মনিলাল আইচ লিটু  নাক-কান ও গলারোগ বিশেষজ্ঞ


আপনার মন্তব্য