শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:৩৩

ভাইরাসের লক্ষণ ও করণীয়

নতুন আতঙ্ক করোনাভাইরাস

নতুন আতঙ্ক করোনাভাইরাস

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে চীনের করোনাভাইরাস। চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস গতকাল পর্যন্ত আরও ২০টি দেশে ছড়িয়ে গেছে। এই ভাইরাস সার্স ভাইরাসের মতোই প্রাণঘাতী। বিষয়টি শনাক্ত করেন বিজ্ঞানী লিও পুন। তিনি মনে করেন, ভাইরাসটি কোনো প্রাণীতে সংক্রমিত হয়েছিল এবং এটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে। হংকং ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ স্কুলের ভাইরোলজিস্ট লিও পুন বলেন, ‘ভাইরাসটি নিউমোনিয়ার মতো অসুস্থতা তৈরি করে। কিন্তু কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দেয় না।’

এই ভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এছাড়া বিভিন্ন দেশ কীভাবে এই ভাইরাস মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবে, আক্রান্ত রোগীদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং কী ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে, সে সম্পর্কে ইতিমধ্যে দিকনির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি। নতুন এই ভাইরাসের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে বাংলাদেশও।

করোনাভাইরাস কী : করোনাভাইরাস হচ্ছে ভাইরাসের একটি বড় গ্রুপ। অর্থাৎ অনেক ধরনের করোনাভাইরাস রয়েছে। প্রাণীদের মধ্যে এ ধরনের ভাইরাস কমন। বিরল ক্ষেত্রে এই ভাইরাস বিজ্ঞানীদের ভাষায় জুনোটিক হতে পারে। অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে এমন ৬টি করোনাভাইরাস এতদিন পরিচিত ছিল। এখন যেগুলোতে মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে সেগুলো নতুন ধরনের করোনাভাইরাস। আগে থেকে অপরিচিত এই ভাইরাস ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারীর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনে গতকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন ২১৩ জন। আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার।  এটা সরকারি হিসাব। তবে বেসরকারিভাবে বলা হচ্ছে, চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। চীন থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়াতে পারে সে জন্য বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থলবন্দরগুলোতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

ভাইরাসের লক্ষণ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাস জুনোটিক। অর্থাৎ এই ভাইরাস পশুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি এই ভাইরাস সিফুড খাওয়ার ফলেই ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকেও অন্য মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সংস্পর্শে এলে বা তার সঙ্গে হাত মেলালেও করোনাভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ হলো- জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি। অসুখ আরও বাড়লে কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি।

এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে করণীয় : আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে। বার বার প্রয়োজন মতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে  এলে বা ভাইরাস ছড়িয়েছে এমন এলাকা ভ্রমণ করলে এই সতর্কতা নিতে হবে। মৃত গবাদিপশু/ বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকতে হবে। ভ্রমণকারী আক্রান্ত হলে হাঁচি/কাশির সময় দূরত্ব বজায় রাখা, মুখ ঢেকে হাঁচি/কাশি দেওয়া ও যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা।  Ñস্বাস্থ্য ডেস্ক।


আপনার মন্তব্য