শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০৫

ভার্চুয়াল মিটিংয়ের সুফল-কুফল

অধ্যাপক ডা. মণিলাল আইচ লিটু

ভার্চুয়াল মিটিংয়ের সুফল-কুফল
Google News

জুম চাষ সম্পর্কে জানা থাকলেও জুম মিটিং শব্দটির সঙ্গে ২০২০ সালের আগে আমাদের অধিকাংশ মানুষের কোনো পরিচিতি ছিল না। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন মানুষ জুম ব্যবহার করছেন। আর গুগল মিট, স্কাই পে ইত্যাদি ব্যবহার করছেন আরো ১০০ মিলিয়ন। অর্থাৎ ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা। ঘরবন্দী মানুষ, ছাত্রছাত্রী, অফিস আদালত, সামাজিক যোগাযোগ- সবকিছুই এখন অনলাইনে। কিন্তু এসব ভার্চুয়াল মিটিংয়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা ও বিজ্ঞান সম্মতভাবে ব্যবহার না করলে হতে পারে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও। আসুন আমরা জেনে নেই কি হতে পারে; আর কেমন করেই আমরা থাকতে পারি ঝুঁকিমুক্ত। অতিসম্প্রতি আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের মধ্যে প্রতি ৭ জনে একজন আর পুরুষদের মধ্যে প্রতি ২০ জনে ১ জন মারাত্মক ভার্চুয়াল মিটিং সিনড্রোমে ভুগছেন। আসলে ভার্চুয়াল মিটিংয়েরও সুফল-কুফল রয়েছে। অতিরিক্ত (দৈনিক ৩ ঘণ্টার বেশি) ভার্চুয়াল মিটিং অ্যাপস ব্যাবহারের ফলে শরীরে অসম্ভব ক্লান্তি লাগা, দূর্বলতা বা ক্লানি বোধ, ঘন ঘন চোখ দিয়ে পানি পড়া, ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, চোখের পাতা অতিরিক্ত পিটপিট করা, মাথা ব্যথা, মাঝে মাঝে ঘাড় ব্যথা, কোমড়ে ব্যথা, মাইগ্রেন বেড়ে যাওয়া, অন্য কাজে মন সংযোগ কমে যাওয়া, নিদ্রাহীনতা, নিজেকে অনেকটা শূন্য মনে করার মত সমস্যা দেখা দেয়।

কেন সমস্যা হয় : ভার্চুয়াল মিটিংয়ে স্ক্রিনে মাত্রাতিরিক্ত চোখ ও মনসংযোগের কারণে মস্তিস্ক ও চোখের ঘাড়, পিঠ, কোমরের পেশীসমূহের ওপর অসহনীয় চাপ পড়ে। কম্পিউটার, স্ক্রিন, ভয়েস, ক্যামেরা, বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় এক ধরনের techstress তৈরি করে। তাছাড়া audiovisual delay এবং মস্তিষ্কে ও চোখে bluelight excitation ও তার অস্বাভাবিক brain stress and excitation জন্ম দেয়।

কীভাবে ভালো থাকবেন : কোন মিটিং করার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন, হেডফোন ইন্টারনেট সংয়োগ, ক্যামরা, ভালোভাবে check করুন; বাসায় আলাদা কর্নার বা রুম নির্দিষ্ট করুন : কখনই গা এলিয়ে বা বিছানাতে এ কাজটি করবেন না; শক্ত চেয়ারে মেরুদন্ড সোজা করে বসুন। ১০/১৫ মিনিট পরপর audio only option এ যান; অন্তত ৫ মিনিটের জন্য। স্ক্রিন এডজাস্ট করুন, চোখের লেভেল ও আরামদায়ক দূরত্ব এডজাস্ট করুন।  খেয়াল রাখুন মিটিংয়ের সময় যেন অতিরিক্ত সময়ে না গড়ায়। কোন মিটিং ৪০ মিনিটের বেশি করা বাঞ্চনীয় নয়। নিতান্তই প্রয়োজন হলে ১৫ মিনিট break দিতে হবে। এক নাগাড়ে করা যাবে না। দিনে ৩ টির বেশি বা ৩ ঘণ্টার বেশি মিটিং এ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। রয়েছে। একসাথে অনেকগুলো কাজ করা যাবে না। ইনবক্স, চ্যাট, ভিডিও ফিড ইত্যাদি বন্ধ রাখুন।

লেখক: নাক-কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ।