মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর লা গুয়াইরা মেরামত করে পুনরায় চালু করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্রবন্দর মেরামত করে পুনরায় চালু করে। একই সঙ্গে দেশটি জোড়া ভূমিকম্পে নিহত এক হাজার সাত শতাধিক মানুষের শেষকৃত্যের কাজও শুরু করেছে। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মহল্লার পর মহল্লা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পাঁচ দিন পর মরদেহ উদ্ধারের কাজই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ভূমিকম্পে দেশটিতে সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ হাজার মানুষ। তবে কতজন নিখোঁজ, সে বিষয়ে সরকার কোনো তথ্য দেয়নি। অন্য বিভিন্ন হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে।
দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দর লা গুয়াইরা বন্দর পুনরায় চালু হয়েছে। সেখানে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সংবাদদাতা একটি গুদামে সাদা ও কালো ব্যাগে রাখা শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ এবং কয়েকটি কফিন দেখতে পেয়েছেন। একই সময়ে সেখানে মার্কিন ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল নোঙর করে ত্রাণসামগ্রী খালাস করা হয়।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অঞ্চলটির বহু মানুষ অস্থায়ী মর্গের বাইরে স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নীল পোশাক পরা ফরেনসিক কর্মীদের মরদেহ পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।
কাছেই ধসে পড়া ভবনের বিশাল ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর সেই সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ।
এদিকে, কারাকাসের কাছে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা। ভূমিকম্পে বিমানবন্দরটিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সরকার লা গুয়াইরায় সেনা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গভীর সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার লাখো মানুষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ধীর ও সীমিত ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভেনেজুয়েলায় জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, ২৭টি দেশ প্রায় ৪০টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। এসব দলে ২ হাজারের বেশি সেনা ও উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি অনুসন্ধানী কুকুর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ১০ হাজার বডিব্যাগ সরবরাহ করবে। তবে তাদের আশা, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে কম হবে।
তবে জীবিত উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে শেষ হয়ে গেছে।
তারপরও অলৌকিক ঘটনা ঘটতেই পারে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে দেশটির প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভূমিকম্পে অর্থনীতিতে ৬৭০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ।
সূত্র: এএফপি।
বিডি-প্রতিদিন/বিএম