শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২০ ০০:২৭

বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিলেন খাশোগির ছেলেরা

বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিলেন খাশোগির ছেলেরা

সৌদি সাংবাদিক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগির হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন তার ছেলেরা। গতকাল এক টুইট বার্তায় খাশোগির ছেলেদের পক্ষ থেকে এমন একটি ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর এএফপি। টুইট বার্তায় খাশোগির বড় ছেলে সালাহ খাশোগি ঘোষণা দেন, আমরা আমাদের বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে নিলাম। তবে সৌদি আরবে বসবাসকারী সালাহর কাছ থেকে আইনিভাবে এই ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

এদিকে, সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকারীদের ক্ষমা করার অধিকার কারও নেই বলে দাবি করেছেন তার বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। খাশোগির হত্যাকারীদের ক্ষমা ঘোষণা করে তার ছেলে টুইটারে বিবৃতি দেওয়ার পর হেতিস পাল্টা টুইটে এ দাবি জানান। হেতিস চেঙ্গিস টুইটে লিখেছেন, তাকে যে নির্মম কায়দায় ও জঘন্য উপায়ে হত্যা করা হয়েছে, তার হত্যাকারীদের ক্ষমা করার অধিকার কারোরই নেই। জামালের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না, অন্যরা থামবে না। তিনি আরও বলেন, যারা হত্যা করেছে এবং যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছে তাদের ক্ষমা নেই।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাশোগি। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট। শুরুতে তাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাশোগি হত্যার শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে সৌদি সরকার। পরবর্তীতে তুরস্কের তদন্তে বেরিয়ে আসে মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রতিবেদনেও একই বিষয়টি উঠে আসে। জাতিসংঘের বিশেষ দূতের তদন্তেও মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করা হয়। যদিও ঘটনার সঙ্গে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে বারবার দাবি করে রিয়াদ। আঙ্কারা জানায়, রিয়াদ থেকে ১৫ জন গোপন বাহিনীর সদস্য তুরস্কে গিয়ে খাশোগিকে হত্যা করে। চাপে পড়ে পরবর্তীতে এই হত্যাকান্ডের জন্য ১১ জন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটর। গত ডিসেম্বরে একটি রায়ে অভিযুক্তদের পাঁচজনকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত, তিনজনকে ২৪ বছর করে জেল এবং বাকিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। তবে রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র আহমেদ বেনছেমসি জানিয়েছিলেন, পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি ‘সন্তোষজনক’ নয়। তিনি বলেন, শুরু থেকেও বিচার প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ছিল। আমরা এখনো জানি না দুষ্কৃতকারীরা কারা, কাদের বিরুদ্ধের অভিযোগ আনা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর