শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২১ ২৩:৫০

ইউনেস্কো-ইউনিসেফের গবেষণা

১০ কোটি শিশু মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় বিশ্বের অন্তত ১০ কোটি শিশু শিক্ষা গ্রহণের ন্যূনতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলে প্রচলিত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ মিলিয়ন তথা ৫৮ কোটি ৪০ লাখ।

ইউনেস্কোর (ইউএস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) জরিপের এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে গত ২৬ মার্চ।

২০২০ সালের প্রায় পুরো সময়ই করোনায় লকডাউনে ছিল বিশ্বের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনার প্রকোপ দেখা না দিয়ে প্রচলিত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা হতো ৪৬০ মিলিয়ন তথা ৪৬ কোটি। অর্থাৎ দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের এসব শিশু মৌলিক শিক্ষা পেত না। তার সঙ্গে ১০ কোটি যুক্ত হয়েছে করোনার তান্ডবে। এর ফলে গত দুই দশকে সব শিশুকে মৌলিক শিক্ষার আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা বড় ধরনের একটি ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউনেস্কোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের মহামারী দেখা দেওয়ার পর থেকে গত বছরের শেষ পর্যন্ত গড়পড়তা স্কুল বন্ধ রাখতে হয় ২৫ সপ্তাহের মতো।

তবে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয় ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল এবং সেন্ট্রাল ও সাউথইস্টার্ন এশিয়ার দেশসমূহে। করোনার টিকা প্রদানের কার্যক্রম সাফল্যজনকভাবে সমাপ্ত হলে সংক্রমণের হার যদি সত্যিকার অর্থেই নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে শিশু শিক্ষার এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বছর চারেক সময় লাগবে বলে ইউনেস্কোর গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।

ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফের যৌথ এই গবেষণা জরিপ অনুযায়ী, করোনার মধ্যে অনলাইন ক্লাসে উপকৃত হয়েছে মোট শিক্ষার্থীর ২৫%। আগে থেকেই এসব শিশু শিক্ষার্থীর বাসায় অনলাইন এবং কম্পিউটার সুবিধা থাকায় তারা সহজেই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয় বলে মনে করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছর আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপের ১০৭ দেশের অধিকাংশ স্কুলেই ক্লাস শুরু হয়েছে। এর ফলে ৪০ কোটি শিশু শিক্ষার্থীর ভার্চুয়াল ক্লাসের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এখনো ৩০ দেশে স্কুল খোলেনি। এর ফলে ১৬ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থীকে ভার্চুয়াল অথবা অন্য কোনোভাবে ক্লাস করতে হচ্ছে।