শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ জুন, ২০২১ ১০:২৬
প্রিন্ট করুন printer

মানুষের সুনীতি কেড়ে নেয় গিবত

মুহম্মদ ওমর ফারুক

মানুষের সুনীতি কেড়ে নেয় গিবত
Google News

গিবত বা পরনিন্দা কবিরা গুনাহ। যে মানুষ এতে আক্রান্ত হয় সে তার সুবিবেচনা ও সুনীতি হারিয়ে ফেলে। গিবত বা পরনিন্দার প্রবণতা এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের সুসম্পর্কে ভাঙন সৃষ্টি করে। ইসলামে গিবত ব্যভিচারের চেয়েও ঘৃণ্য। শরিয়তের পরিভাষায় গিবত বলা হয় কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো দোষ অন্যের কাছে বর্ণনা করা যা শুনলে সে কষ্ট পাবে। প্রকৃতপক্ষে যদি তার মধ্যে সেই দোষ থাকে তাহলে তা হবে গিবত, আর যদি না থাকে তবে তা অপবাদ। মূলত অপবাদ গিবতের চেয়েও নিকৃষ্ট। ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত করা ও শোনা দুটিই সমান অপরাধ। জীবিত মানুষের গিবত করা যেমন হারাম, মৃত মানুষের গিবত করাও তেমন হারাম। গিবত জেনার চেয়েও নিকৃষ্ট ও আপন মৃত ভাইয়ের মাংষ খাওয়ার সমান। মহান আল্লাহ আল কোরআনে গিবত থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা একে অন্যের দোষত্রুটি অন্বেষণ ও পরস্পর গিবত কোরো না। তোমাদের মধ্যে কেউ তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তা ঘৃণাই কর। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ সুরা হুজুরাত, আয়াত ১২। হাদিসেও গিবত সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

গিবতের কারণে মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। একবার রসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই এ দুই কবরবাসীকে আজাব দেওয়া হচ্ছে। তবে বড় কোনো অপরাধের কারণে নয়; এদের একজন প্রস্রাব থেকে নিজেকে হেফাজত করত না। অন্যজন গিবত করে বেড়াত।’ বুখারি। রসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘গিবত জেনার চেয়েও নিকৃষ্ট।’ মিশকাত।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই (দুনিয়ায় থাকতেই) তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়; ওই দিন আসার আগে যেদিন তার কোনো দিনার বা দিরহাম কাজে আসবে না। সেদিন তার কোনো নেক আমল থাকলে সেখান থেকে জুলুমের সমপরিমাণ কেটে নেওয়া হবে। আর তার কোনো নেক আমল না থাকলে মজলুমের গুনাহের কিছু অংশ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ বুখারি। গিবত থেকে বেঁচে থাকা খুব কঠিন নয়। এজন্য দরকার নিজের জবানের হেফাজত। জবান যাতে শয়তানের অনুগামী না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিবের পরিণামই মানুষকে উপুড় করে দোজখে নিক্ষেপ করবে।’ মিশকাত। মহান আল্লাহ আমাদের গিবতসহ সব ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ