শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:২৯

কলকাতাকে নিজের দেশ বলেই মনে হয়: হাছান মাহমুদ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

কলকাতাকে নিজের দেশ বলেই মনে হয়: হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, 'আমি কলকাতাকে কখনো আলাদা মনে করি না, মনে হয় আমি বাংলাদেশেই আছি। কারণ আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এক।'

শুক্রবার কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত 'রবীন্দ্র তীর্থ' মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

ইন্দো-বাংলা কাউন্সিল ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড কালচারাল কোলাবরেশন আয়োজিত 'ইন্দো-বাংলা সামিট ২০১৯'- এ উপস্থিত থেকে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ হাজার বছরের পুরনো। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মানুষ আমরা সবাই বাঙালি। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এক। রাজনৈতিক বিভাজনে আমরা দেশ দুই, কিন্তু জাতিগতভাবে আমরা এক।  আমরা হয়তো অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় অতটা সমৃদ্ধ নয়, কিন্তু বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি অন্যতম শক্তিশালী ভাষা।"

মন্ত্রী বলেন, "পৃথিবীতে অর্থনীতি যখন কৃষিনির্ভর ছিল তখন ভারত এবং বাংলাদেশে (অভিভক্ত) অনেক বিত্তবান ছিল কারণ হলো এখানকার কৃষিযোগ্য জমি। পরবর্তীতে অর্থনীতিশিল্প নির্ভর হয়ে পড়াতে ভারত এবং বাংলাদেশ ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে।"

তার অভিমত, "পৃথিবীতে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে। স্টিম ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ, কম্পিউটার শিল্পের ক্ষেত্রে ইউরোপ বা আমেরিকার থেকে আমরা অনেক পরে শুরু করলেও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে বাংলাদেশ প্রায় শুরু থেকেই যুক্ত হয়ে ছিল। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ আজকে বাস্তবায়নের দিকে। ভারতে একই রকম উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আমি মনে করি নিজেদেরকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার প্রয়োজন। আর শিক্ষা কখনোই বেড়াজাল মানে না। বাস্তবে শিক্ষা আদান-প্রদানে দুই দেশ আরও উন্নত হতে পারে। এর সাথে আরও বৃদ্ধি করতে হবে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান। সাথে জোর দিতে হবে সামাজিক মাধ্যমের আদান-প্রদানে। মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে এককভাবে কোন দেশ উন্নতি করতে পারবে না। গোটা রিজিয়ন অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে উন্নত হলে প্রতিটি দেশই উন্নত হবে। ''

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথ হিসেবে ছিলেন কলকাতা বাংলাদেশ উপ দূতাবাসের প্রধান তৌফিক হাসান,  বাংলাদেশের লিডিং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি আবু তাহের কামরুদ্দিন এবং ইন্দো-বাংলা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বনমালী ভৌমিক । 

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখোমুখি হন তথ্যমন্ত্রী। বিটিভি ভারতের মাটিতে সম্প্রচার করা নিয়ে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল 'বাংলাদেশ টেলিভিশন' বিনামূল্যে ডিটিএইচ ( ডিরেক্ট টু হোম) পরিষেবার মাধ্যমে ভারতে জনগণের কাছে দেখানোর সুযোগ করে দেয়ায় ভারতকে অনেক ধন্যবাদ। এখন সমগ্র ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেলগুলো ভারতে প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে ভারতের কোন বিধিনিষেধ না থাকলেও সেখানকার কেবল নেটওয়ার্ক পরিচালনকারী (এম.এস.ও) তারা প্রায় ৫ কোটি অর্থ দাবি করছে, পাঁচ কোটি যা বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য অসম্ভব। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবকিছু দেখা যায়। তাই আমি আশা করব এম.এস.ও  গুলি যেন সেই অর্থ পরিমাণ কিছুটা কমায়। যাতে এই চ্যানেলগুলো খুব শিগগিরই এ দেশে দেখা যায়।" বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, "এটা সমীচীন নয়, এটাকে অনুমতি দেয়া হবে না।'

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর