শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০২০ ১২:৩৫
আপডেট : ২০ মার্চ, ২০২০ ১৫:১২

করোনা আতঙ্ক : কেউ হাঁচি দিলেই ফোন যাচ্ছে থানায়

অনলাইন ডেস্ক

করোনা আতঙ্ক : কেউ হাঁচি দিলেই ফোন যাচ্ছে থানায়
প্রতীকী ছবি

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালাচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৯টি দেশ ও অঞ্চলে হানা দিয়েছে চীনের উহান থেকে উৎপত্তি এই ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৪৮ জনের।

আসলে অন্যান্য ভাইরাসজনিত জ্বরের মতোই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে একই রকম উপসর্গ দেখা দেয়। করোনাভাইরাস মূলত ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত জ্বরের সঙ্গে শুকনা কাশি দিয়ে শুরু হয়। জ্বর ও কাশির এক সপ্তাহের মাথায় শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। ফলে এখন জ্বর-কাশি হলেই অনেকে মনে করছেন, এই বুঝি করোনাভাইরাস। 

করোনা নিয়ে আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কেউ ঘনঘন হাঁচি বা কাশি দিলেই প্রতিবেশীরা থানায় ফোন করছেন। ভারতের জলপাইগুড়িতে এমনটাই ঘটেছে। 

বুধবার বিকেল থেকে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করেছে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায়। এক পুলিশ অফিসার জানান, 'এতদিন থানার ফোন তুলে চুরি হওয়া, বাড়িতে ডাকাত পড়ার কথাই শুনে এসেছি। এখন ফোন করে লোকে বলছে, অমুকে খুব কাশছে, করোনা হতে পারে স্যার। ধরে নিয়ে যান।'

খানিকটা বিরক্ত হয়েই ওই অফিসার বললেন, “যেতেও হচ্ছে। না হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে দিচ্ছে পুলিশ কাজ করে না।”

বুধবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় ফোন আসে, শহরের আনন্দপাড়ার এক আবাসিক এলাকায় আমেরিকা ফেরত দু’জন রয়েছেন। পুলিশ পৌঁছাতে খানিকটা দেরি হওয়ায় এলাকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি শুরু করেন। শেষে পুলিশ পৌঁছায়। 

জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার ওই দুই বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে কোনোভাবেই বের না হতে নির্দেশ দিয়ে আসেন। আনন্দপাড়া থেকে অফিসারেরা ফিরতে না ফিরতেই পুলিশকে জানানো হয় পোস্ট অফিস মোড় লাগোয়া এক ব্যবসায়ীর নাক দিয়ে সমানে পানি গড়াচ্ছে। চিকিৎসকের কাছে যেতে বললেও তিনি যাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার সকালে থানায় ফোন আসে নেতাজিপাড়ায় এক ব্যক্তি জ্বরে আক্রান্ত। থানার ল্যান্ড লাইনে ফোন করে বলা হয়, “দ্রুত কিছু করুন।” খবর পেয়েই পুলিশ রওনা দেয়।

শুধু জলপাইগুড়ি শহর নয়, জেলা জুড়েই বিভিন্ন থানায় এমন বহু ফোন আসছে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী বলেন, “সন্দেহভাজন করোনা রোগীর খবর দিয়ে অনেকেই ফোন করছেন, থানায় জানাচ্ছেন। বিষয়গুলো আমরা গুরুত্ব দিয়েই দেখছি। সন্দেহভাজন রোগীকে গিয়ে সরকারি নির্দেশ মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলছি। নজরও রাখছি।”

বৃহস্পতিবার সকালেই এক আদিবাসী নারী নাগরাকাটায় থানায় এসে বলেন, তিনি হরিয়ানা থেকে ফিরেছেন। এখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত, শ্বাসকষ্টও রয়েছে। থানায় এসে সাহায্য চান তিনি। পুলিশ তাকে শুল্কাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করায়। রাতে তাকে হোম কোয়ানেন্টাইনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, করোনা আতঙ্কের কারণে আপাতত বিশেষ অভিযান বন্ধ, খুব প্রয়োজন না হলে গ্রেফতার ও আটক এড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর