শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৭

সম্প্রসারিত হচ্ছে ঢাকা ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল

একনেকে আট প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রসারিত হচ্ছে ঢাকা ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল

সম্প্রসারিত হচ্ছে ঢাকা ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল দুটির সামনের অংশ অপরিবর্তিত রেখে ভিতরে বহুতল ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।

এ ছাড়া গতকাল একনেক সভায় ঠাকুরগাঁও চিনিকল আধুনিকায়ন ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেনদেনিং এবং মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার-২ প্রকল্পসহ আটটি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পসমূহের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৬৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৩ হাজার ২৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্র জানিয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের জায়গা আছে। মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণে প্রয়োজনে ওপারের জায়গা ব্যবহার করা হবে। এ ক্ষেত্রে দুই পারেই ২০ তলা ভবন করে সংযোগের জন্য মাঝখানে ব্রিজ করা হবে। অনেকটা টুইন টাওয়ারের আদলে এ ভবন নির্মিত হবে। এতে স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজকেও সম্প্রসারণ করে বহুতল ভবন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ আমলের সামনের ভবন অক্ষুণ্ন রেখে ভিতরের অংশে ২০ তলা ভবন নির্মাণের কথা বলেছেন তিনি। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, উৎপাদন বহুমুখীকরণের মাধ্যমে লাভজনক করার লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের সঙ্গে কো-জেনারেশন, সুগার রিফাইনারি, ডিস্টিলারি, বায়োগ্যাস প্লান্ট ও বায়োকম্পোস্ট প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের আধুনিকায়ন ও সুষমকরণ, চিনিকলের আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বহাল রাখা, সুগার রিফাইনারি স্থাপন করে আমদানিতব্য ‘র’ সুগার থেকে হোয়াইট সুগার উৎপাদন করা, সুগার বিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করা। প্রধানমন্ত্রী আখের পরিবর্তে সুগার বিট চাষে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করা এবং উৎপাদিত সুগার বিট সংগ্রহের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের পুরনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহ, বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করার পদক্ষেপ দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সাগর উপকূল, নদীতীর এবং অন্যান্য জলাশয়ের তীরবর্তী কতটা উচ্চতাসম্পন্ন বাঁধ হবে সে বিষয়টির ব্যাপারে নীতিমালা থাকলে সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব। তারাইল-পাঁচুরিয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প উপস্থাপনের পর আলোচনাকালে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে নিরাপদ খাওয়ার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী চলমান পানি শোধনাগারসমূহের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে শেষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। একনেক সভায় অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—৪৫৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেনদেনিং’ প্রকল্প, এক হাজার ৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার-২ (পিজিসিবি অংশ : মাতারবাড়ী-মদুনাঘাট ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন) প্রকল্প, ৪১১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ঠাকুরগাঁও চিনিকলের পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন এবং সুপার বিট থেকে চিনি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন’।

 ৭৯৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন’ (কম্পোনেন্ট-২ : দেশের সাতটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ) প্রকল্প, ৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প, ৩২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘তারাইল-পাঁচুরিয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প, ২৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাক ব্যয়ে ‘পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রাজশাহী মহানগরীর অন্তর্ভুক্ত সোনাইকান্দি হতে বুলনপুর পর্যন্ত এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প এবং ৬০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ ফেজ-৩ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ঢাকা মহানগরীর লো ইনকাম কমিউনিটি (এলআইসি) এলাকার ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক পানি সরবরাহ সেবার মান উন্নয়ন এবং ঢাকা ওয়াসার ফিন্যানশিয়াল মডেলিং ও কারিগরি সক্ষমতার উন্নয়ন’।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর