শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:৫১

সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুলকে কেন জামিন নয়

----- হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে কেন জামিন দেওয়া হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আরিফুলের করা জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ। আরিফুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি আরিফুল হককে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যেরবাজারে ঈদ-পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, পরে ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এর পরদিন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। প্রথমে সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ অভিযোগপত্র দেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদালতের নির্দেশে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া অভিযোগপত্রের ওপর বিচারিক আদালতে নারাজি দেন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। সব মিলিয়ে মামলায় আসামির সংখ্যা হয় ৩৫। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আরিফুল হক পরে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। পরে তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালে হাইকোর্ট রুল দেয়। আরিফুল হকের মায়ের অসুস্থতা বিবেচনায় চলতি বছরের ২২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে তিনি ১৫ দিনের জামিন পান। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। এই আদেশের বিরুদ্ধে আরিফুল হক জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এই বিভাগের আরও খবর