Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৮

রাজনীতির হালচাল যশোরে

সক্রিয় আওয়ামী লীগ, অনুমতিসাপেক্ষে রাজনীতি করছে বিএনপি, চ্যালেঞ্জে জাতীয় পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

রাজনীতির হালচাল যশোরে

যশোরে ‘অনুমতিসাপেক্ষে’ রাজনীতি করছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের কর্মসূচি ঘরবন্দী। সাংগঠনিক অবস্থাও নড়বড়ে। ২০০৯ সালে জেলা, নগর ও থানা কমিটি হয়। এরপর আর কোনো সম্মেলন বা কমিটি করতে পারেনি তারা। আন্দোলন-সংগ্রামে যে যুবদল বা ছাত্রদলের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি, সেই যুবদলের কমিটি হয় না ১৫-১৬ বছর। শেষ কমিটি কবে গঠিত হয়েছে, তা দলের অনেক সিনিয়র নেতাই ভুলে গেছেন। ছাত্রদলেরও একই অবস্থা। কেন্দ্র থেকে দেওয়া ঢাউস কমিটি অথর্ব অবস্থায় চলছে বছরের পর বছর। কমিটির বেশির ভাগ নেতার ছাত্রত্ব চলে গেছে বহু আগেই। অনেকেই সন্তানের বাপ হয়েছেন। দলের সব উপজেলা কমিটিরও একই অবস্থা। বর্তমান অবস্থায় মূল দল থেকে শুরু করে সহযোগী সব সংগঠনের নেতা-কর্মী ভয়ে সিটিয়ে আছেন। শহর এলাকার নেতা-কর্মীরা ইদানীং কিছুটা বাইরে বের হতে পারলেও মফস্বলের অবস্থা খুবই খারাপ। জেলার শীর্ষ নেতারাও বিষয়টা অবহিত আছেন। তারা বলছেন, একদিকে পুলিশ, অন্যদিকে সরকারি দল, মামলা, হামলা— এর মধ্যে মফস্বলের বিরোধী নেতা-কর্মীরা চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছেন।

যশোর নগর বিএনপির সভাপতি যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ বলেন, সরকার যাতে সঠিকভাবে চলে সেজন্য শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার, সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তিনি     বলেন, অনুমতিসাপেক্ষে রাজনীতি হয় না। অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মসূচিই পালন করা যাচ্ছে না। মিলাদ মাহফিলের মতো আয়োজন করতে গেলেও অনুমতি নিতে হচ্ছে। সাংগঠনিক দুরবস্থা সম্পর্কে মারুফ বলেন, ২৯ অক্টোবর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী জেলা বিএনপির সদস্য নার্গিস বেগম। এ ছাড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদাকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হলে দল গতিশীল হবে বলে তিনি মনে করছেন। তবে তিনি বলেন, এর আগেই যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি করা দরকার ছিল। কারণ আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, মূল দলসহ সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে সততার সঙ্গে করতে হবে। লেজুড়বৃত্তিকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি করলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। আন্দোলন সংগ্রামে যশোর বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে মারুফ বলেন, রাজধানী ঢাকায় যেভাবে সভা-সমাবেশ হচ্ছে, জেলা পর্যায়েও সেভাবে গা বাঁচানো কর্মসূচি করা হচ্ছে। শুধু জেলা পর্যায়ের আন্দোলন সংগ্রামে তো সরকার পতন হবে না। অনেক জেলায় খুব ভালো আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু তাতে কিছুই আসে যায়নি। রাজধানীতে আগে করে দেখাতে হবে। তখন জেলা পর্যায়ে তা এমনিতেই ছড়িয়ে পড়বে। জোট প্রসঙ্গে মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের সবচেয়ে বড় শরিক জামায়াতে ইসলামী, তাদের এখন মাঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। অন্য শরিকদের দিয়ে কেবল নামের তালিকাই ভারী করা যায়, কাজের কাজ কিছুই হয় না।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ পেলে বিএনপির যে জনসমর্থন আছে, আন্দোলন সংগ্রাম করতে আর কারও প্রয়োজন হবে না।

সক্রিয় আওয়ামী লীগ উপজেলা কমিটিগুলো দুরবস্থায় : ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন শহিদুল ইসলাম মিলন সভাপতি ও শাহীন চাকলাদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর সাত-আট মাস পর জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়। নতুন এ কমিটি গঠনের পর থেকে যশোরের রাজনীতির মাঠ তারাই দখল করে রাখেন। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে যশোরের প্রবীণ নেতা পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য অভাবিতভাবে প্রেসিডিয়াম মেম্বার নির্বাচিত হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সেই রেশ চলছে এখনো। এর আগে দলে এত বড় পদ যশোর অঞ্চল থেকে আর কেউই পাননি।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ খুব ভালোভাবে মাঠে থাকলেও রয়েছে কিছু দুর্বলতাও। ইদানীং দলে গ্রুপিংয়ের বিষয়টাও আলোচিত হচ্ছে। তা ছাড়া উপজেলা কমিটিগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। বেশির ভাগ সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পর্ক ভালো নয়। এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগ কয়েক মাস ধরে জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জঙ্গিবাদবিরোধী জনমত গঠনে অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায়, স্কুল-কলেজে জঙ্গিবাদ ও নাশকতাবিরোধী সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা হয়েছে। তিনি বলেন, বড় দলে সব সময়ই কিছুটা গ্রুপিং থাকে। কিন্তু ২০০৩ সালের পর যশোর আওয়ামী লীগে গ্রুপিংয়ের মাত্রা অনেক কমে আসে। ইদানীং আমরা লক্ষ্য করলাম, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফল করতে জেলা আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছিল, সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এলেন না।

নেতা-কর্মী ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় পার্টির : জাতীয় পার্টি যশোরে জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলো করে ফেলেছে। কেবল শার্শা উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বেশির ভাগই যশোরে নিয়মিত পালনের চেষ্টা করা হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনেও দলটিকে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছানোর বিষয়টি তারা প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছেন। কেবল শার্শা উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে, সেখানে সম্মেলন করার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে জাতীয় শ্রমিক পার্টি, জাতীয় মহিলা পার্টি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর জাতীয় যুবসংহতি ও ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় ছাত্রসমাজের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সরু চৌধুরী বলেন, ২৩ অক্টোবর জাতীয় পার্টি যশোরে সব উপজেলায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপজেলা দিবস পালন করে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি অংশ নানারকম ভয়ভীতি ও লোভ প্রদর্শন করে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের নিজেদের দলে ভেড়াচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নেতা-কর্মীদের ধরে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর