Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৮

কথা রাখেনি বাংলা একাডেমি

মোস্তফা মতিহার

কথা রাখেনি বাংলা একাডেমি

গণমাধ্যমে এবারের গ্রন্থমেলাকে শৈল্পিক করার বিষয়ে অনেক কথার ফুলঝুরি ছড়ালেও সেসব ছিল শুধু কথার কথা। গতকাল মেলার দ্বিতীয় দিনেও চরম অব্যবস্থাপনা অগোছালো পরিবেশে অনেকেই ছিলেন বিরক্ত। মেলার নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধনে গাছ লাগানো হবে, দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের বিশ্রামের জন্য বসার আসন থাকবে, পর্যটন করপোরেশনের উন্নত ক্যান্টিন থাকবে, মেলাকে ধুলোমুক্ত রাখা হবে, মেলায় স্থাপিত পানির ফোয়ারা মেলার আগতদের কৃত্রিম ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ      করে দেবে, মেলা শুরুর আগে এ ধরনের নানা কথা দিলেও কথা রাখতে পারেনি বাংলা একাডেমি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় এখনো স্টল নির্মাণের অবশিষ্ট বালু ও মাটির স্তূপ পড়ে আছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। তবে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রমে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে দ্বিতীয় দিনে। চালু হয়নি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশের তথ্যকেন্দ্র। কথা দিয়েও বাংলা একাডেমি কেন কথা রাখছে না এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রকাশক জানান, বাংলা একাডেমির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া আর ‘অরণ্যে রোদন’ একই কথা। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি বাংলা একাডেমি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না করে তাহলে একুশের চেতনায় শানিত এই গ্রন্থমেলায় বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন প্রকাশকদের অনেকে। গতকাল সন্ধ্যার আগে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেক বইপ্রেমীরে মুখে ছিল ধুলো থেকে রক্ষার জন্য মাস্ক। এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, প্রস্তুতি আছে বলেই মেলা ঠিকঠাকভাবে চলছে। প্রস্তুতি না থাকলে আরও পিছিয়ে যেতে পারত। যে সমস্যাগুলোর কথা বলা হচ্ছে তা শিগগিরই ঠিক হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে প্রতিবছর মেলার শুরুর দিকে একই রকমের সমস্যা থেকেই যায়। বাংলা একাডেমি যেন শুধু উদ্বোধনী আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আমি মনে করি অবিলম্বে এই মেলা প্রকাশকদের কাছে ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমরা আন্তর্জাতিক মানের মেলা উপহার দিতে সক্ষম। বিকাল ৪টা পর্যন্ত মেলা প্রায় নিষ্প্রাণ ছিল। তবে ৫টার পর নিষ্প্রাণ মেলা প্রাণের ছোঁয়া পায়। কিন্তু যেহারে দর্শনার্থী এসেছিল সে হারে ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। আজ মেলার প্রথম শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন বই : গতকাল মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন মাত্র পাঁচটি বইয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম দিনের মতো গতকালও মেলায় এসেছে শতাধিক নতুন বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সেলিনা হোসেনের ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’, চন্দ্রাবতী একাডেমি; আয়েশা ফয়েজের ‘শেষ চিঠি’, তাম্রলিপি; আনিসুল হকের ‘প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে, প্রথমা; মোহাম্মদ রফিকের ‘মানব পদাবলি’, বাতিঘর; এ কে এম শাহনেওয়াজের ‘ভাষা আন্দোলন পরিপ্রেক্ষিত ও ইতিহাস’, অবসর; সাদ উর রহমানের ‘ঢাকাই খাবার ও খাদ্য সংস্কৃতি’, ঐতিহ্য; নবনিতা বসু হকের ‘ভারতীয় সেরা লেখিকাদের সাইদুর সেরা গল্প’, অনিন্দ্য প্রকাশ; হুমায়ূন আহমেদের ‘রচনাবলী- নবম ও দশম খণ্ড’, অন্যপ্রকাশ; হরিশংকর জলদাসের ‘জীবনানন্দ ও তাঁর কাল’, অবসর, সাহস : মাশুক চৌধুরীর কবিতার বই স্বর্গের রেপ্লিকা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর