শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:১২

হঠাৎ বাড়ছে নতুন রোগ

ঘরে ঘরে ‘চিকন গুনিয়া’ জ্বর

জয়শ্রী ভাদুড়ী


হঠাৎ বাড়ছে নতুন রোগ

আট বছরের ছেলে মনিরকে নিয়ে রাজধানীর সংক্রামক হাসপাতালে এসেছেন রিজিয়া বেগম। ছেলের দুই পায়ে লাল এবং নাভির গোড়ায় লাল চাকা চাকা দাগ হয়ে আছে। আর এর সঙ্গে তীব্র জ্বর এবং বুকের পাঁজরে ব্যথায় দাঁড়াতে পারছে না শিশুটি। দুই দিন আগে হঠাৎ করে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান রিজিয়া বেগম। সেখানে ডাক্তাররা এটাকে হামের একটা লক্ষণ মনে করে পাঠিয়ে দেন সংক্রামক হাসপাতালে। কিন্তু সংক্রামক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সব কথা শুনে এটাকে হাম বা এ ধরনের রোগ না বলে জানান। তাই এই নতুন ধরনের রোগ শনাক্ত করতে চিকিৎসক অভিভাবককে পরামর্শ দেন রক্ত পরীক্ষা করার জন্য। এরকম নাম না জানা বেশ কিছু নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শুধু তাই নয়, পুরনো রোগগুলোও দেখা দিচ্ছে নতুন অনুসঙ্গ সংযুক্ত হয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এ সময় আবহাওয়াজনিত কারণে মানুষ তুলনামূলক বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে এডিস মশার কামড়ে হওয়া ‘চিকন গুনিয়া’ জ্বর খুব বেশি হচ্ছে। অন্য বছরে এই রোগে দু-একজন রোগীর দেখা পেলেও এ বছর প্রতিদিনই ১০-১২ জন করে রোগী আসছে। তীব্র জ্বর, বমি এবং প্রচণ্ড ব্যথায় শয্যাশায়ী হয়ে যায় এই রোগে আক্রান্ত হওয়া মানুষ। নতুন রোগ সে রকম না দেখলেও পুরনো রোগগুলোই ভিন্ন আঙ্গিকে মাথাচাড়া দিচ্ছে। ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জায় মানুষ খুব বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎপা নিতে এসেছেন সিরাজগঞ্জের মাহমুদ আলী। সমস্যার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ১০ দিন ধরে বমি, আমাশয় এবং জ্বরসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সিরাজগঞ্জ এবং ঢাকার বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছি। রক্ত, ইউরিনসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ধরা পড়েনি কোনো রোগ। তাই শেষ ভরসা হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। তাই রোগ শনাক্ত করতে আবারও বিভিন্ন রকমের টেস্ট করতে দিয়েছেন চিকিৎসক। স্বামীর স্যালাইন ফোঁড়া হাত কোলের ওপর নিয়ে বসেছিলেন আরিফা বেগম। চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পরিশ্রম করা মানুষটা এই ১০ দিনেই বিছানায় পড়ে গেছে। কিছু খেতে পারে না। ডাক্তাররা কত ওষুধ দিল কোনোটাতেই কাজ হলো না। তারা ধরতেও পারছে না যে হইছে কী? তাই ঢাকায় নিয়ে আসছি।’ জানা গেছে, রোদ-বৃষ্টি এবং ধুলাবালুতে অ্যালার্জি এবং অ্যাজমা রোগ দেখা দিচ্ছে নতুন ডাইমেনশন নিয়ে। এর সঙ্গে হাম, নিউমোনিয়া, টনসিলের প্রদাহ, হঠাৎ করে গলা বসে যাওয়া রোগগুলোতেও প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় হাজারখানেক রোগী আসে অ্যালার্জি, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ নিয়ে। এ রোগের প্রকোপ বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের নাক, কান ও গলা রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে রোগগুলো বাড়ছে। নতুন রোগ সেভাবে চোখে না পড়লেও এই রোগগুলোর ধরনে বেশ কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের হাসপাতালে প্রায় ৪০০-৫০০ রোগী আসছে এ ধরনের সমস্যা নিয়ে।

 


আপনার মন্তব্য