শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১০

নদী বাঁচাও ১১

বর্জ্যে দূষিত মহানন্দা

মো. রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বর্জ্যে দূষিত মহানন্দা

মহানন্দা নদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নামের সঙ্গে যার সম্পর্ক জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে নদীটি। শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়েছে মহানন্দা। কিন্তু শহরের সৌন্দর্য বর্ধনকারী এই নদীই এখন দূষণের কবলে। পৌর এলাকার সব পয়োনালার মুখ গিয়ে মিলেছে মহানন্দা নদীতে। পাশাপাশি শহরের সব বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে এই নদীর তীরে। এতে নদীর পানি শুধু দূষিতই হচ্ছে না, বরং বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষবাষ্প। স্থানীয়রা বলছেন, আগে তীরবর্তী মানুষ তো বটেই, বরং শহরের অনেক দূরের মানুষও গোসল করত এই মহানন্দা নদীর পানিতে। এ ছাড়া নদীর পানি রান্নার কাজেও ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন তা আর হচ্ছে না, নদীদূষণের জন্য। এদিকে জেলার পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মহানন্দা নদীর এই দূষণ প্রতিরোধের দাবি জানিয়ে আসছেন বহুদিন ধরে। এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। কিন্তু দূষণ প্রতিরোধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলায় পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সেভ দ্য নেচারের সমন্বয়কারী রবিউল হাসান ডলার বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার সব ড্রেনের পানি মহানন্দা নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে করে পানি দূষিত হওয়ায় নদী থেকে মাছসহ প্রাণবৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া তীরে পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা-আবর্জনা ফেলায় নদীসহ আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে নদীদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তবে আশার কথা শোনাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানালেন, বহু আগে থেকে শহরের সব ড্রেনের মুখ এই প্রিয় মহানন্দা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে নতুন করে কোনো ড্রেনের সংযোগ এই নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হবে না। বরং আগের ড্রেনের সংযোগমুখ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আর বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য আলাদা একটি স্থান নির্ধারণ করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলেই নদীদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে পৌর মেয়রের এই কথা শুধু সান্ত¦নার বাণী, নাকি আন্তরিকতা, এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে সন্দেহ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর