শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৬

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ৪২২ হাসপাতাল

মাহবুব মমতাজী

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানীর ৪২২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই হাসপাতালগুলোতে অগ্নিকাণ্ড  মোকাবিলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় অন্য হাসপাতালগুলোতেও নিরাপত্তার বিষয়টি ফের আলোচনায় চলে এসেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান এ প্রতিবেদককে জানান, জরিপের পর ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশ হাসপাতালই এতে সাড়া দেয়নি। আগামী সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে একটি সভা করা হবে। এতে তাদের কাছে হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি নেওয়া হবে। এ ছাড়া যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ জানিয়েছি। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর মোট ৪৩৩টি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এতে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২৪৮টি হাসপাতালকে এবং ১৭৪টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের সার্বিক বিবেচনায় সন্তোষজনক অবস্থানে ছিল মাত্র ১১টি হাসপাতাল। পরিদর্শনকালে তারা দেখতে পান- কিছু হাসপাতালের আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি থাকলেও তা ব্যবহার করতে জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এসব হাসপাতালে ভূমিকম্প কিংবা বড় ধরনের অগ্নিকা  হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তারা এ জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য সতর্ক করেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৩০টির বেশি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও এসব হাসপাতাল তা মানেনি। শর্তগুলো হলো- আশপাশের ফ্যাক্টরির অবস্থান নির্ধারণ, ব্যবহৃত ফ্লোরের আয়তন, ভবনের সাধারণ সিঁড়ির প্রশস্ততা, অগ্নিনির্বাপণ কাজে সিঁড়ির ব্যবস্থা, জরুরি প্রস্থানের সিঁড়ির সংখ্যা ও প্রশস্ততা নির্ধারণ, প্রতি তলায় সেফটি লবির ব্যবস্থা রাখা, জরুরি বহির্গমন পথ মার্কিং ও ভবনের ছাদ টিনশেড কিনা তা যাচাই করা, ছাদে ওঠার সিঁড়ির সংখ্যা ও প্রশস্ততার দিকে নজর রাখা, ছাদের দরজা খোলা ও ভবনের বহির্গমন দরজার ব্যবস্থা রাখা, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংক (৫০ হাজার গ্যালন) রাখা, ১০ হাজার গ্যালনের ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক থাকা, বৈদ্যুতিক তারের কনসিল ওয়্যারিং থাকা, বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বক্স, সুইচ বক্স, জংশন বক্স এবং ডিমান্ড বক্স নিরাপদ অবস্থানে রাখা। প্রতি ফ্লোরে এবং কক্ষে সার্কিট ব্রেকার রাখা, কর্মচারীদের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সিঁড়িসহ সব পথ বাধামুক্ত রাখা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জরিপের পর শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে একটা মহড়া হয়েছিল। যার কারণে দ্রুত সেখানকার দুর্ঘটনা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া অন্য হাসপাতালগুলোতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য হাসপাতালগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, স্কয়ার হসপিটাল, বিআরবি হাসপাতাল, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটাল, ল্যাবএইড কার্ডিওলজি হসপিটাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টার অর্থোপেডিক হসপিটাল, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, মানোয়ারা হাসপাতাল, আদ-দ্বীন হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, খিদমাহ হাসপাতাল, খিলগাঁও গ্রিন ভিউ ক্লিনিক, হাজারীবাগ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, লালবাগ সেন্ট্রাল হসপিটাল, গ্রিন লাইফ হসপিটাল, কমফোর্ট নার্সিং হোম, সিটি হসপিটাল, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোধ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল, আগারগাঁও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, শেরেবাংলা নগর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, আল-রাজী হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল, মাতুয়াইল মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল, হিকমা স্পেশালাইজড চক্ষু হাসপাতাল, ধানমন্ডি হাসপাতাল, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, ধানমন্ডি ক্লিনিক এবং আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল। বেশি ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে- শমরিতা হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২, ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতাল, ধানমন্ডি কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিএসওএইচ হাসপাতাল, প্যানোরমা হসপিটাল, ধানমন্ডি মেডিএইড জেনারেল হাসপাতাল এবং মেরিস্টোপ বাংলাদেশ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর