Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৯ ২৩:৫১

বুড়িগঙ্গা রক্ষায় সর্বনাশ ধলেশ্বরীর

সাভারে ট্যানারি বর্জ্য হুমকিতে পরিবেশ

নাজমুল হুদা, সাভার

বুড়িগঙ্গা রক্ষায় সর্বনাশ ধলেশ্বরীর
ট্যানারির বর্জ্যে এখন ক্ষতি হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীর -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বর্জ্যরে বিষাক্ত প্রভাব থেকে রাজধানীর ‘প্রাণ’ বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে ট্যানারি শিল্পকে সাভারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। শতাধিক ট্যানারি কারখানা ইতিমধ্যে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভাবে বুড়িগঙ্গার মতো পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছে সাভার-সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদী। পরিবেশবিদরা বলছেন, পরিকল্পিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) অভাবে বুড়িগঙ্গার মতো ধলেশ্বরীসহ আশপাশের নদীগুলোর প্রাণও এখন যেতে বসেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও  স্থানীয়রা বাসিন্দারা। এদিকে ট্যানারি মালিকরা সিইটিপি নির্মাণে সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর বলছে, সবগুলো কারখানা স্থানান্তর হওয়ার পর সিইটিপি পুরোদমে কার্যকর হবে। তখন দূষণের মাত্রা কমে আসবে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী ও নদী-সংলগ্ন হাজারীবাগ এলাকা দূষণমুক্ত এবং চামড়াশিল্পের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ১৯৯ একর জমিতে চামড়াশিল্প নগর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ১১তম বার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ট্যানারি কারখানাগুলোকে নতুন শিল্পাঞ্চলে নেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ট্যানারির বর্জ্যে দূষিত হয়ে মরতে বসেছে ধলেশ্বরী। রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরাতে সাভারের তেঁতুলঝোরা ইউনিয়নে ট্যানারি পল্লী গড়ে তোলা হয়। এলাকাবাসী জানান, পরিকল্পিত কাঠামো ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ট্যানারি পল্লী গড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশনের অভাবে ট্যানারির বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে ধলেশ্বরী। বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ডাম্পিং ইয়ার্ডের পাশে ডোবা ও নদীর ধারে। ট্যানারির এসব কঠিন বর্জ্য ও ঝিল্লির অংশ পচে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। ডাম্পিং ইয়ার্ডের বাঁধ ভেঙে নদীতে বর্জ্য যেতে যেতে ধলেশ্বরীর তীরে তিনটি বড় নালার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া চামড়াশিল্প নগরের অবকাঠামোগত কাজও আছে অসমাপ্ত অবস্থায়। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা কোম্পানির গোঁড়ামি, যথার্থ তদারকির অভাব এবং চামড়াশিল্প কর্তৃপক্ষ ও মালিকদের উদাসীনতায় যথাযথ পরিশোধন ছাড়াই বর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদীতে। এত দিনেও চালু হয়নি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ক্রোমিয়াম সেপারেশন ব্যবস্থা। মেসার্স সালমা ট্যানারির শ্রমিক মিরাজ উদ্দিন জানান, সল্ট পরিশোধনেরও কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। অপরিশোধিত বর্জ্য স্ক্রিনিং করে দুটি আলাদা পাইপ লাইনে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারে (সিইটিপি) ও ক্রোম রিকোভারি ইউনিটে নির্গমণ করানো অত্যাবশ্যক হলেও প্রকৃতপক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্ক্রিনিং ছাড়াই পাইপলাইনে ছেড়ে দিচ্ছে। এ জন্য দূষণ বাড়ছে ধলেশ্বরীতে। এ কারণে প্রায়ই মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘পরিকল্পিত কাঠামো ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ট্যানারি পল্লী গড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। এখনো আমরা সরকারের সঙ্গে মিলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তবে সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার আমাদের ট্যানারি স্থানান্তর করতে বলেছে। আমরা কিছু স্থানান্তর করেছি। বাকিগুলোর সরানোর কাজ চলছে। কিন্তু বিসিক যদি বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে, তাহলে সেখানে গিয়েই বা আমাদের লাভ কী?’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর